প্রকাশ: সোমবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৯:৩৭ পিএম

অন্তর্বর্তী সরকারের পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেছেন, দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে না থাকলেও তার একেবারে ওপরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, সামান্য ধাক্কাতেই এরা সহজেই দরিদ্র হয়ে পড়তে পারে।
সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এক সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দারিদ্র্যসীমার ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থান বোঝাতে তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, “অনেকে নাক বরাবর পানিতে দাঁড়িয়ে আছে, সামান্য ঢেউ এলে তারা তলিয়ে যাবে।”
ন্যায্যতাভিত্তিক সমাজে চরম দারিদ্র্যের স্থান নেই উল্লেখ করে ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, কোনো দেশ এত গরিব হতে পারে না যে তার সব নাগরিকের মৌলিক জীবনধারণের চাহিদা মেটাতে পারবে না। তাই এখন অজুহাতের সুযোগ নেই; সকলকে ন্যূনতম সামাজিক নিরাপত্তা দিতে হবে। এজন্য দারিদ্র্য বিমোচনকে শুধু অর্থনৈতিক নয়, রাজনৈতিক লক্ষ্য হিসেবেও গ্রহণ করতে হবে।
তিনি জানান, সামাজিক ভাতা প্রদানে উপকারভোগী নির্ধারণে বড় ধরনের সমস্যা রয়েছে। বর্তমানে ভাতা পাওয়া ব্যক্তিদের প্রায় ৫০ শতাংশই প্রকৃত যোগ্য নন। রাজনৈতিক প্রভাব বা ভুয়া তথ্য দিয়ে তারা এই সুবিধা পাচ্ছেন। তাই জাতীয়ভাবে সমন্বিত তালিকা তৈরি এবং মাঠপর্যায়ে সঠিক তদারকির ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
রংপুর অঞ্চলের ‘মঙ্গা’ প্রসঙ্গ টেনে পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, ২০০৩-০৫ সালের দিকে গণমাধ্যমের কারণে সরকার মৌসুমি দারিদ্র্য ‘মঙ্গা’ স্বীকার করে এবং তা মোকাবিলায় নানা কর্মসূচি নেয়। বর্তমানে রংপুরে মৌসুমি ক্ষুধা কিছুটা কমেছে, তবে দারিদ্র্য এখনও বিদ্যমান।
এছাড়া দেশের আরও কিছু জেলায় নতুন দারিদ্র্যঘন অঞ্চল তৈরি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, সাতক্ষীরা ও পটুয়াখালীর মতো জেলাগুলোতে এ ধরনের এলাকা বাড়ছে। এসব অঞ্চলের জন্য আলাদা লক্ষ্যভিত্তিক কর্মসূচি গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ