
প্রতারণা ও চাঁদাবাজির মামলায় আলোচিত মডেল মেঘনা আলম আদালতে হাজির হয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন।
রোববার (৩১ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এম এ আজহারুল ইসলামের আদালতে হাজিরা দিতে গিয়ে কোরআন হাতে নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার সঙ্গে কখনো কোনো পুরুষের শারীরিক সম্পর্ক হয়নি। সৌদি রাষ্ট্রদূত ঈসা ছাড়া কারো সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কও ছিল না।’
মেঘনা আদালতে আরও বলেন, ‘আমি কখনো কারও সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করিনি, এমনকি ঈসার সঙ্গেও না। আমাকে চরিত্রহীন বা লম্পট প্রমাণের অপচেষ্টা বন্ধ হোক।’
এদিন এ মামলায় মেঘনা আলমের পাসপোর্ট, মোবাইল ও ল্যাপটপসহ অন্যান্য জিনিস ফেরত পাওয়ার আবেদনের ওপর আদালতে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
এদিন মামলার জব্দকৃত আলামত- পাসপোর্ট, মোবাইল, ল্যাপটপসহ বিভিন্ন জিনিস ফেরত চেয়ে করা আবেদনের শুনানি হয়। মেঘনার আইনজীবী মহসিন রেজা পলাশ জানান, তার মক্কেল একজন লিডারশিপ ট্রেইনার এবং নিয়মিত বিদেশ ভ্রমণের প্রয়োজন হয়। তাই তারা বিশেষভাবে পাসপোর্ট ফেরতের বিষয়ে জোর দেন।
তবে তদন্ত কর্মকর্তা জানান, মোবাইল ও ল্যাপটপের পাসওয়ার্ড না পাওয়ায় ফরেনসিক পরীক্ষা সম্ভব হয়নি। মেঘনার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, তারা তখনই পাসওয়ার্ড দিতে প্রস্তুত ছিলেন, তবে তদন্তকারী কর্মকর্তা তা চাননি।
আদালত আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ফরেনসিক প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।
মেঘনা আলমের জব্দ করা জিনিসের মধ্যে রয়েছে- পাসপোর্ট, আইফোন-১৬ প্রো, ম্যাগবুক, অপো মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ। এসব তথ্য নিশ্চিত করেন মেঘনা আলমের আইনজীবী মহিমা বাঁধন ও মহসিন রেজা পলাশ।
এ বিষয়ে মহসিন রেজা পলাশ বলেন, ‘মেঘনা আলম একজন লিডারশিপ ট্রেইনার। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য প্রায়ই তাকে দেশের বাইরে যেতে হয়। এজন্য আমরা প্রথমে তার পাসপোর্টটি ফেরত দেওয়ার ওপর জোর দিয়ে আজ শুনানি করেছি।’
এর আগে গত ১০ এপ্রিল বিশেষ ক্ষমতা আইনে ৩০ দিনের আটকাদেশ দিয়ে মডেল মেঘনাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে তার ৩০ দিনের আটকাদেশ বাতিল হয়েছিল। গত ১৭ এপ্রিল ধানমন্ডি থানার মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। পরে গত ২৮ এপ্রিল আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন। পরদিন ২৯ এপ্রিল তিনি কারামুক্ত হন।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, মেঘনা আলম, দেওয়ার সমিরসহ অজ্ঞাতনামা ২ থেকে ৩ জন একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা বিভিন্ন সুন্দরী মেয়েকে দিয়ে বাংলাদেশে কর্মরত বিভিন্ন বিদেশি রাষ্ট্রের কূটনীতিক, প্রতিনিধি ও দেশীয় ধনাঢ্য ব্যবসায়ীদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে অবৈধ সম্পর্ক স্থাপন করে। পরে সুকৌশলে তাদের সম্মানহানির ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করে আসছে।
দেওয়ান সমির কাওয়াই গ্রুপ নামক একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সিইও এবং সানজানা ইন্টারন্যাশনাল নামক একটি ম্যানপাওয়ার প্রতিষ্ঠানের মালিক মর্মে জানা যায়।
এছাড়া ইতোপূর্বে তার মিরআই ইন্টারন্যাশনাল ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড নামক একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছিল। বিভিন্ন আকর্ষণীয়, স্মার্ট মেয়েদের তার প্রতিষ্ঠানে ব্রান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে নিয়োগ দিয়ে বিদেশি কূটনীতিক ও ধনাঢ্য ব্যবসায়ীদের কাছে সহজে যাতায়াত নিশ্চিত করা ছিল তার উদ্দেশ্য।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম