প্রকাশ: শুক্রবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৫, ৪:০০ পিএম

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার শেখবাঁধা রেয়াজিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মো. সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও নিয়োগ জটিলতাসহ নানা অভিযোগের কারণে তার এমপিও (বেতন-ভাতা) সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর।
বুধবার (২৭ আগস্ট) অধিদপ্তরের অর্থ শাখার সহকারী পরিচালক ও এমপিও বাছাই ও অনুমোদন কমিটির সদস্য সচিব বুলবুল আহম্মেদ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সরকারি বরাদ্দ যথাযথভাবে ব্যবহার না করা, আর্থিক অনিয়ম এবং কর্মচারী নিয়োগে জটিলতা সৃষ্টির প্রমাণ পাওয়া গেছে। এজন্য বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০১৮ (২৩ নভেম্বর ২০২০ পর্যন্ত সংশোধিত) অনুযায়ী সুপার মো. সাইফুল ইসলামের এমপিও সাময়িকভাবে স্থগিত করা হলো। এবং কেন স্থায়ীভাবে এমপিও বন্ধ করা হবে না- সে বিষয়ে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
এদিকে বিষয়টি জানাজানি হলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সুপার একক কর্তৃত্ব কায়েম করে নানা অনিয়ম করে আসছিলেন। ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিদের সহযোগিতায় প্রায় ৪৯ বিঘা জমির লিজের অর্থ আত্মসাৎ, মাদ্রাসার জমি বন্ধক রাখা, সরকারি অনুদানের অপব্যবহার, এমনকি জাল স্বাক্ষরের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এর আগে রেজ্যুলেশন জাল করে নিয়োগ প্রদান ও জমি লিজের টাকা নয়ছয়ের ঘটনায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল।
অন্যদিকে, অভিযোগ রয়েছে যে, চলমান তদন্তের মাঝেও এনটিআরসিএ কর্তৃক সদ্য প্রকাশিত ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনের ৬ষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের কাছ থেকেও সুপার মো. সাইফুল ইসলাম অর্থদাবি করেছেন।
অধিদপ্তরের প্রকাশিত সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে সুপার মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘নোটিশ পেয়েছি। নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নথিপত্র দাখিল করব।’
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম