বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
   
শিরোনাম:
দেশকে অস্থিতিশীল করার সুযোগ দেয়া হবে না       নৈরাজ্য ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে মোংলায় বিএনপির বিক্ষোভ       আওয়ামী লী‌গের তিন নেতা গ্রেপ্তার      সাতক্ষীরায় জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রকল্পের সমাপনী      সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ       আইনশৃঙ্খলা সভায় হট্টগোল, তর্কে জড়ালেন এমপি হান্নান      লাতিন আমেরিকার দুই দলকে হারাল জাপান-কোরিয়া      কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সন্দেহে ৫১ কিশোর আটক      প্রথম ১৪ ওয়ানডেতেই ইতিহাস গড়লেন ম্যাথু ব্রিটজকে      ২৫ সেপ্টেম্বরের মুর্তজা কিজিলবাশের কনসার্ট স্থগিত      অঙ্কন-নন্দিতার দ্বৈত কণ্ঠে আজ প্রকাশিত হচ্ছে ‘মথুরা’      ফোটন সার্ভিস সেন্টারের উদ্বোধন      
গুরুদাসপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সংকট, রোগীদের ভোগান্তি
নাটোর প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৫, ৩:০৩ পিএম আপডেট: ২৯.০৮.২০২৫ ৩:০৯ PM
গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে

গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবায় নানামুখী সংকট দেখা দিয়েছে। প্রায় তিন লক্ষাধিক মানুষের একমাত্র ভরসা এই হাসপাতালে রোগীরা প্রতিনিয়ত নানা সমস্যায় ভুগছেন। একদিকে চিকিৎসক সংকট, অন্যদিকে যন্ত্রপাতির অচলাবস্থা ও অব্যবস্থাপনা—সব মিলিয়ে স্বাস্থ্যসেবার মান ব্যাহত হচ্ছে।

সম্প্রতি সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন আব্দুল মান্নানের (৫৫) ছেলে। তাকে গুরুদাসপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। তবে এক্স-রে মেশিন বিকল থাকায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। 

এসময় সরকারি অ্যাম্বুলেন্স চাইলে চালক জানান, তেলের বরাদ্দ নেই, যেতে হলে দিতে হবে ৩৫০০ টাকা। অথচ সরকার নির্ধারিত ভাড়া সর্বোচ্চ ১৭৫০ টাকা। বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়েই রোগীকে রাজশাহী নিতে হয়।

আব্দুল মান্নান বলেন, “সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ছেলেকে নিয়ে এসেছিলাম চিকিৎসার জন্য গুরুদাসপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। কিন্তু এখানে এক্স-রে মেশিনের কার্যক্রম বন্ধ। নেই অর্থোপেডিক্স বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। এমনকি সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়েই রাজশাহী নিয়ে যেতে হয়েছে ছেলেকে।”

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৮ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ২০ জন। এর মধ্যে তিনজন রয়েছেন ডেপুটেশনে। কার্যত ১৭ জন চিকিৎসক দিয়ে চলছে পুরো স্বাস্থ্যসেবা। অথচ হাসপাতালে নেই কোনো সার্জন, অর্থোপেডিক্স বিশেষজ্ঞ কিংবা যৌন ও চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ। অ্যানেস্থেসিয়া ডাক্তারের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে সার্জারি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এছাড়া একমাত্র এক্স-রে মেশিন বহুদিন ধরে বিকল অবস্থায় পড়ে আছে।

শুধু চিকিৎসক বা যন্ত্রপাতিই নয়, অ্যাম্বুলেন্স সেবাও কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে। তেলের সংকটে গত পাঁচ মাস ধরে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে সীমিত আকারে ইসিজি পরীক্ষাসহ কিছু পরীক্ষা চালু আছে, বাকিগুলো করতে হচ্ছে বাইরে।

নার্সিং বিভাগের ৩৯টি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন ৩৮ জন। কিন্তু পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ না থাকায় রোগীদের বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হচ্ছে। কমিউনিটি ক্লিনিক ও টিকাদান কেন্দ্রগুলোও তেলের সংকটে গাড়ি থাকলেও উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে যেতে পারছেন না।

হাসপাতালের ভেতরের পরিবেশ নিয়েও অসন্তুষ্ট রোগী ও স্বজনরা। ২০২৫ সালের জুনে আউটসোর্সিংয়ের জনবলের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার কারণেও ব্যাপক জনবল সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাকর্মী পর্যাপ্ত না থাকায় নোংরা টয়লেট, দুর্গন্ধযুক্ত পরিবেশ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবে তারা দুর্ভোগে পড়ছেন। বিদ্যুৎ চলে গেলে অন্ধকারে ডুবে থাকে হাসপাতাল। জেনারেটর না থাকায় রোগীদের ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়।

চিকিৎসা নিতে আসা আসমা বেগম বলেন, “বিদ্যুৎ না থাকায় অন্ধকারে কিছু দেখা যায় না। গরমে রোগীরা আরও অসুস্থ হয়ে পড়ে। অনেক রিপোর্ট বাইরে থেকে করাতে হয়।” 

রোগী রুপালি খাতুন, রোজিনা বেগম, সুরুজ মিয়া ও নজরুলও একই অভিযোগ করেন।

ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া মাকসুদুল আলম বলেন, “দুই দিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম। কিন্তু অসুস্থ মনে হচ্ছে আরও বেশি হয়েছে। ওয়ার্ড এবং ওয়াশরুমের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নেই বললেই চলে। এভাবে চলতে থাকলে রোগীরা আরও অসুস্থ হয়ে যাবে।”

চিকিৎসা নিতে আসা আইনজীবী এসএম শহিদুল ইসলাম সোহেল বলেন, “হাসপাতালে নানা সংকট থাকলেও কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাদের সাধ্য অনুযায়ী সেবা গ্রহীতাদের নিরবিচ্ছিন্ন সেবা দিয়ে যাচ্ছে। যে সকল সংকট রয়েছে তা দ্রুত কার্যকর করা হলে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার পরিধি আরো বাড়বে।”

এ বিষয়ে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এএসএম আলমাস বলেন, “আমরা সীমিত জনবল ও সুযোগ-সুবিধা নিয়েই সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। শূন্য পদ পূরণ ও বিকল যন্ত্রপাতি সচল করার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।”


স্বদেশ প্রতিদিন/এমএএম



আরও সংবাদ   বিষয়:  গুরুদাসপুর   স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স  






Loading...
Loading...
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close