
চাঁদপুরে মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে ১৩ নির্দেশনা
অংশীজনদের সর্বসম্মতিক্রমে মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে ১৩ দফা নির্দেশনা জারি করেছেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক।
শুক্রবার (২৯ আগষ্ট) সকালে জেলার মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার মানোন্নয়নে জেলা প্রশাসকের স্বাক্ষরিত এক পত্রে ১৩ নির্দেশনা প্রতিপালনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন।
সর্বশেষ এ বছর এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিপর্যয়ের পর চাঁদপুর জেলার সর্বমহলে শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয় এবং এমন পরিস্থিতি থেকে বের হওয়ার আসার জন্য উদ্যোগ নেয়া হয়।
জেলা প্রশাসক বলেন, জেলার মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার মানোন্নয়নে করণীয় নির্ধারণের নিমিত্ত গত ১২ আগস্ট শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিবর্ণ এবং শিক্ষা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কর্মশালায় মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান বৃদ্ধির জন্য এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
এগুলো হলো—
১. শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে মোবাইল আনতে পারবে না, শিক্ষকরা মোবাইল নিয়ে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করতে পারবেন না।
২. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শতভাগ শিক্ষার্থী উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।
৩. কোনো শিক্ষার্থী টানা ৩ দিন অনুপস্থিত থাকলে অভিভাবকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে, প্রয়োজনে বাড়ি পরিদর্শন করতে হবে।
৪. শিক্ষকরা শ্রেণিকার্যক্রম শুরুর অন্তত ১৫ মিনিট আগে বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকবেন; প্রতিষ্ঠানপ্রধান তা নিশ্চিত করবেন।
৫. নির্ধারিত সময়ের আগে কোনো শিক্ষক প্রাইভেট পড়াতে পারবেন না।
৬. কোচিং বাণিজ্য বন্ধ নীতিমালা-২০১২ কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।
৭. শ্রেণিকক্ষে পাঠদানে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
৮. প্রতি মাসে অভিভাবক সমাবেশ বা প্যারেন্টস ডে আয়োজন করতে হবে।
৯. শিক্ষার্থীদের নিয়মিত হোমওয়ার্ক দিতে হবে এবং জমা দেওয়ায় বাধ্য করতে হবে।
১০. বিদ্যালয়ের ডিজিটাল ল্যাব ও সরঞ্জামের ব্যবহার বাড়াতে হবে।
১১. শ্রেণি কার্যক্রমে শিক্ষক নির্বাচনে বিষয়ভিত্তিক দক্ষতাকে প্রাধান্য দিতে হবে।
১২. প্রতিটি বিষয়ে মাসে অন্তত দুইবার ক্লাস টেস্ট নিতে হবে; সিলেবাস ও প্রশ্নপত্র বিদ্যালয় কর্তৃক প্রণীত হবে।
১৩. দুপুরে হালকা খাবার আনার জন্য অভিভাবকদের উৎসাহিত করতে হবে। টিফিন ব্রেকের পর হাজিরা নেওয়া বাধ্যতামূলক; অনুপস্থিতি হলে অভিভাবককে জানাতে হবে। এছাড়া শ্রেণিকক্ষে আসনসংখ্যার বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করা যাবে না।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন বলেন, প্রথমত শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষা দিতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। ন্যূনতম এই ১৩ নির্দেশনা প্রতিপালন করলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ও গুণগত মান অনেকটা নিশ্চিত হবে।