প্রকাশ: শুক্রবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৫, ২:৫৩ পিএম

রাজবাড়ীর কৃষকরা ভালো দামের আশায় কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের নির্মিত আধুনিক মডেল ঘরে পেঁয়াজ সংরক্ষণ করেও ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। যেখানে ঘরে রাখা পেঁয়াজ ৬ থেকে ৯ মাস ভালো থাকার কথা, সেখানে ৩ থেকে ৪ মাসের মধ্যেই পচন ধরেছে। এতে হতাশ ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন চাষিরা।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, “পেঁয়াজ ও রসুন সংরক্ষণ পদ্ধতি আধুনিকায়ন এবং বিপণন কার্যক্রম উন্নয়ন” প্রকল্পের আওতায় রাজবাড়ীর কালুখালী ও বালিয়াকান্দি উপজেলায় কৃষকদের জন্য ৫০টি মডেল ঘর নির্মাণ করা হয়। চলতি বছর পাংশা উপজেলাতেও আরও ৫০টি ঘর নির্মাণ শেষে কৃষকদের মাঝে হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রতিটি ঘর নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা। কংক্রিটের পিলারের ওপর নির্মিত ২৫ ফুট লম্বা ও ১৫ ফুট চওড়া ঘরগুলোতে রয়েছে তিন স্তরের মাচা। বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ সাপেক্ষে, যৌথভাবে পাঁচজন কৃষক এসব ঘরে প্রায় ৩০০ মন পেঁয়াজ সংরক্ষণ করতে পারেন।
কৃষক নজর আলী বিশ্বাস, মহেদ বিশ্বাস, লতিফ বিশ্বাস, জিল্লু শেখ ও পরশ আলী খানসহ অনেকে জানান, আধুনিক ঘর নিয়ে তাদের অনেক আশা ছিল। কিন্তু মাত্র তিন মাসেই সংরক্ষিত পেঁয়াজের অর্ধেক নষ্ট হয়ে গেছে। বাধ্য হয়ে তারা কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করেছেন, যার ফলে বড় ধরনের লোকসান গুনতে হয়েছে।
কৃষকদের অভিযোগ, আগের প্রচলিত পদ্ধতিতেই পেঁয়াজ সংরক্ষণ বেশি কার্যকর ছিল। সরকারি এই মডেল ঘর এখন অনেকের জন্য ক্ষতির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকে এসব ঘরে পেঁয়াজ না রেখে আলু, রসুনসহ অন্যান্য ফসল সংরক্ষণ করছেন।
এ বিষয়ে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের প্রকল্পের উপ-পরিচালক মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বেশিরভাগ কৃষক দেশি জাতের পরিবর্তে হাইব্রিড বা উচ্চ ফলনশীল জাতের পেঁয়াজ সংরক্ষণ করেছেন। এগুলো দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণের উপযোগী নয়। কৃষকদের দেশি জাত সংরক্ষণের পরামর্শ দেওয়া হলেও অনেকেই তা মানেননি। ফলে তিন মাসের মাথায়ই পচন ধরেছে।’
পেঁয়াজ পচে যাওয়ায় হতাশ কৃষকেরা এখন বিকল্প সংরক্ষণ পদ্ধতির দিকে ঝুঁকছেন। স্থানীয়দের দাবি, মডেল ঘরগুলোর কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে কৃষকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং দেশি জাতের পেঁয়াজ সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম