ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় প্রায় দুই বছর ধরে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান চান বেশিরভাগ ইসরাইলি সেনা। ইসরাইলের আগাম ইনস্টিটিউট পরিচালিত সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, সেনাদের উল্লেখযোগ্য একটি অংশ যুদ্ধবিরতির পক্ষে মত দিয়েছেন। খবর জানিয়েছে মিডল ইস্ট মনিটর, ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ওয়াল্লা নিউজ–এর বরাতে।
জরিপ অনুযায়ী, ৭৩ শতাংশ সেনা যুদ্ধ শেষ করে হামাসের সঙ্গে বন্দি বিনিময়সহ একটি শান্তিচুক্তি করার পক্ষে মত দিয়েছেন। আবার প্রায় ৪০ শতাংশ সেনা জানিয়েছেন, গাজায় যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার প্রেরণা তাদের মধ্যে কমে গেছে। আরও ৬৪ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, যুদ্ধটি মূলত রাজনৈতিক কারণে চালানো হচ্ছে।
শুধু সেনাদের মধ্যে নয়, সাধারণ ইসরাইলিদের মধ্যেও এই অবস্থান প্রতিধ্বনিত হয়েছে। জরিপে দেখা গেছে, ইসরাইলি নাগরিকদের দুই-তৃতীয়াংশই মনে করেন এই যুদ্ধ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। প্রায় ৭৩.৭৯ শতাংশ ইসরাইলি নাগরিক সংঘাতের অবসান ও বন্দি বিনিময়ের পক্ষে।
চমকপ্রদভাবে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টির ভোটারদের মধ্যেও যুদ্ধ বন্ধের সমর্থন বাড়ছে। জরিপে ৫৪ শতাংশ ভোটার বলেছেন, বৃহত্তর বন্দি বিনিময়ের অংশ হিসেবে যুদ্ধ শেষ হওয়া উচিত।
গাজা যুদ্ধ অবসানের দাবিতে ইসরাইলজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) সকালে ‘হোস্টেজেস অ্যান্ড মিসিং ফ্যামিলিস ফোরাম’ নামে জিম্মিদের পরিবারের সংগঠন রাজধানী তেল আবিবসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ আয়োজন করে। তারা দ্রুত যুদ্ধবিরতি এবং জিম্মিদের মুক্তির দাবি জানায়।
বিক্ষোভকারীরা প্রধান সড়ক অবরোধ করে আগুন জ্বালিয়ে দেন। এতে রাজধানীর উপকণ্ঠের কোস্টাল হাইওয়ে (রুট-২) সহ মহাসড়কগুলোতে ভয়াবহ যানজট সৃষ্টি হয়।
হামাসের হাতে আটক জিম্মি মাতান জাঙ্গাউকারের মা আইনাভ জাঙ্গাউকার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন—
“৬৯০ দিন ধরে সরকার কোনো সুস্পষ্ট লক্ষ্য ছাড়াই যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। এই যুদ্ধ অনেক আগেই শেষ হতে পারত। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী কেবল নিজের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতেই সাধারণ মানুষকে বলি দিচ্ছেন।”
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরাইলি হামলায় গাজা কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন, প্রায় ২০ লাখ মানুষ উদ্বাস্তুতে পরিণত হয়েছে। অবরোধ ও হামলার কারণে জাতিসংঘ ইতোমধ্যেই উপত্যকায় দুর্ভিক্ষ ঘোষণা করেছে। খাদ্য ও ওষুধ প্রবেশ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে, অনাহারে শত শত মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ