প্রকাশ: রবিবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৫, ৭:৫৯ পিএম

পানাম সেতু
বাংলার গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের সাক্ষী নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও। একসময় মসলিন কাপড় ও নৌ-বাণিজ্যের কেন্দ্র ছিল এ জনপদ। সেই সময়ের অন্যতম প্রত্নসম্পদ পানাম সেতু আজ অবহেলা ও অযত্নে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। প্রায় ৯ বছর আগে এ সেতুর পার্শ্ববর্তী স্থানে একটি বিকল্প সেতু নির্মাণের পর থেকে এ সেতুতে যানবাহন ও জন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে এ সেতুতে ফাটল দেখা দিয়েছে। পরিত্যক্ত অবস্থায় সেতুটি পড়ে থাকায় সেতুর পাশে পিঠার দোকান, মাংসের দোকান এবং সবজির দোকান দিয়েছে ব্যবসায়ীরা ।
এছাড়াও, সেতুর ওপর বড় বড় ঘাস জন্মে এক প্রকার জঙ্গলে রূপ নিয়েছে। সেতুর নিচে পঙ্খীরাজ খাল। এ খালে স্থানীয় আদমপুর বাজারের ময়লা-আবর্জনা ও ব্রয়লার মুরগির বিষ্ঠার দুর্গন্ধে অসহনীয় পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। প্রাচীন স্থাপনা দেখতে এ সেতুতে এসে রীতিমতো হতাশ হচ্ছেন পর্যটকরা।
জানা যায়, সোনারগাঁও পৌরসভার আদমপুর এলাকায় পঙ্খীরাজ খালের ওপর মোগল আমলে নির্মিত হয় প্রায় ১৭৩ ফুট দীর্ঘ ও ১৪ ফুট প্রশস্ত তিন খিলানবিশিষ্ট এ সেতু। স্থাপত্যরীতি অনুযায়ী সপ্তদশ শতাব্দীতে নির্মিত সেতুটি শুধু সোনারগাঁও নয়, পুরো বাংলার বাণিজ্যিক যোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মধ্যবর্তী খিলানটি বড় হওয়ায় এ পথ দিয়ে সহজেই বড় নৌকা চলাচল করত। ব্যবসায়ীদের কাফেলা এবং মসলিন রফতানির মালামাল বহনকারী নৌযান চলাচলের প্রধান সংযোগ পথ ছিল এই সেতু। কিন্তু সেই গৌরব এখন অতীত। একসময়ের গৌরবোজ্জ্বল এই স্থাপনা সংরক্ষণে প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ না থাকায় স্থানীয়দের পাশাপাশি পর্যটকরাও হতাশ।
স্থানীয়দের দাবি, এ সেতু সংরক্ষণের জন্য বারবার মানববন্ধন ও আন্দোলন হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন।
ঢাকা থেকে আসা মামুন ও করিম বলেন, পানাম নগর দেখতে এসে সেতুটি দেখে মন খারাপ হলো। ইতিহাসের এমন স্থাপনা এভাবে অযত্নে পড়ে থাকা দুঃখজনক।
জামালপুর থেকে আগত আলামিন হোসেন ও তাঁর স্ত্রী সুমাইয়া জানান, সোনারগাঁয়ে অসংখ্য প্রত্ন সম্পদ রয়েছে। তার মধ্যে এ পানাম সেতু অন্যতম। আমরা ভেবেছিলাম এখানে এসে প্রাচীন সেতুর সৌন্দর্য উপভোগ করব, কিন্তু চারপাশে ময়লা-আবর্জনা আর দোকানপাট দেখে হতাশ হয়েছি।
সোনারগাঁ পানাম সিটির তত্ত্বাবধায়ক মো. সিয়াম চৌধুরী বলেন, পানাম সেতুটি সংস্কারের জন্য ইতোমধ্যে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সেতুর পাশেই বাজার থাকায় প্রায়ই লোকজন এখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলছে। এ কাজ বন্ধে বাজারের ব্যবসায়ীদের একাধিকবার নিষেধ করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন থেকেও কঠোরভাবে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তবুও কিছু অসচেতন মানুষ সেতুর আশপাশে ময়লা ফেলছে, যা প্রত্ন সম্পদ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।