
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নে জলদস্যুদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে স্থানীয়রা। তবে মানববন্ধন শেষে ফেরার পথে হামলার শিকার হয়েছেন অংশগ্রহণকারীরা। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
শনিবার (২৩ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টায় ইউনিয়নের জামালপুর এলাকায় আয়োজিত মানববন্ধনে তিন শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন। তারা দাবি জানান, মেঘনা নদীসংলগ্ন এলাকায় সক্রিয় জলদস্যু ও ডাকাত দলের সদস্য সাজেদুল হক লালু, নয়ন, পিয়াস ও তাদের সহযোগীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার।
মানববন্ধনে অংশ নিয়ে হৃদয় বাঘ নামে এক হত্যাকাণ্ডের শিকার কিশোরের মা মানছুরা বেগম বলেন, ‘নয়ন-পিয়াস ও লালুর লোকজন আমার ছেলেকে গুলি করে মেরে ফেলেছে। আমি তার ফাঁসি চাই।’
আরেকজন অংশগ্রহণকারী বাছিরন বেগম বলেন, ‘নদীতে বালু উত্তোলন, নৌযানে চাঁদাবাজি, খুনসহ নানা অপরাধে জড়িত এই চক্র। প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দরকার।’
রুমা বেগম অভিযোগ করেন, ‘প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তায় একের পর এক খুন করে যাচ্ছে তারা। এখনো এদের নারী সদস্যরা এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করছে।’
মানববন্ধন শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে পার্শ্ববর্তী মতলব থানার বেলতলী এলাকা থেকে ট্রলারে করে এসে একদল নারী হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এই হামলার নেতৃত্বে ছিল জলদস্যু নয়ন ও পিয়াসের মা-বোনসহ তাদের স্বজনরা। প্রায় আধাঘণ্টা দুই পক্ষের মধ্যে ঢিল ছোড়াছুড়ি চলে।
গজারিয়া থানার ওসি আনোয়ার আলম আজাদ বলেন, ‘মানববন্ধন শেষে নদীপথে নয়ন-পিয়াসের স্বজনরা হামলা চালায়। তবে পুলিশের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।’
হামলার খবর পেয়ে সেনাবাহিনী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নৌ-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও এলাকাবাসীর মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
উল্লেখ্য, গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নে বিগত কয়েক মাসে তিনটি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে জলদস্যু চক্র। তাদের দমন ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গত ২২ আগস্ট জামালপুর গ্রামে একটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। তবে শুরু থেকেই ওই ক্যাম্প স্থাপনের বিরোধিতা করে আসছিল ডাকাত গ্রুপগুলো।
পুলিশ জানায়, ক্যাম্প স্থাপনের পর লালু, নয়ন ও পিয়াস আত্মগোপনে গেলেও তাদের নারী সদস্যরা এখনো এলাকায় সক্রিয় রয়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম