প্রকাশ: শুক্রবার, ২২ আগস্ট, ২০২৫, ৩:০৪ AM

যশোরে জাদুবিদ্যার প্রলোভন দেখিয়ে স্বর্ণালঙ্কার আত্মসাতের ঘটনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ দুই প্রতারককে আটক করেছে।
এ সময় প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া ২ ভরি ১৩ আনা সোনার গহনা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত গহনাগুলোর মধ্যে রয়েছে ১৯টি আঙটি, ৬ জোড়া কানের দুল, একটি দড়ি চেইন, দুটি কমল চেইন, দুটি পাক চেইন এবং একটি টিকলি। এর আনুমানিক মূল্য প্রায় ৪ লাখ ৪৬ হাজার টাকা।
আটককৃতরা হলেন, খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার উত্তর আরশ নগরের নফল আলীর ছেলে আসাদুল শেখ ওরফে রাজু, যিনি যশোর সদর উপজেলার সাখারীগাতি গ্রামে ভাড়া থাকেন, এবং একই এলাকার আব্দুল গফ্ফারের ছেলে খাইরুল ইসলাম, যিনি রূপদিয়া বাজারের মামনি জুয়েলার্সের মালিক। এ ঘটনায় সদর উপজেলার নরেন্দ্রপুর পূর্বপাড়ার মৃত মানিক দাসের স্ত্রী গোলাপী রানি দত্ত বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছেন।
ডিবির অফিসার ইনচার্জ মঞ্জুরুল হক ভূঁঞা জানান, গোলাপী রানীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে রাজুর পরিচয় হয়। এক পর্যায়ে তিনি ‘ধর্মবোন’ পরিচয় দিয়ে গোলাপীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করেন এবং দাবি করেন যে তিনি জাদুবিদ্যা জানেন। কাগজ থেকে টাকা বানানো এবং সোনা বহুগুণে বাড়ানো সম্ভব। ১ আগস্ট রূপদিয়া রেলস্টেশনের কাছে দেখা করার সময় রাজু প্রাথমিকভাবে এক জোড়া দুল দেখিয়ে কিছু টাকা ফেরত দেন। এতে প্রলুব্ধ হয়ে ৩ আগস্ট গোলাপী রানি ৩ ভরি ওজনের স্বর্ণালঙ্কার তার হাতে তুলে দেন। এরপর রাজু কৌশলে পালিয়ে যান।
মামলার তদন্তের দায়িত্ব পায় ডিবি পুলিশ। মামলাটিকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত অভিযান শুরু করা হয়। এসআই অলোক কুমার দে মাঠে নামেন এবং মামলার মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে রাত সাড়ে ৯টার দিকে নরেন্দ্রপুর এলাকা থেকে মূল হোতা রাজুকে আটক করেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রূপদিয়া বাজার থেকে সহযোগী খাইরুল ইসলামকেও আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে খোয়া যাওয়া স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হলে রাজু ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। পরে বিচারক দুইজনকেই কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ