প্রকাশ: শুক্রবার, ২২ আগস্ট, ২০২৫, ২:৪৭ AM

বগুড়ায় অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে বক্তারা জানিয়েছেন, প্রতিবন্ধী নারীরা সমাজে সবচেয়ে বেশি অবহেলা ও নির্যাতনের শিকার হন। বিশেষ করে বুদ্ধি ও বাক প্রতিবন্ধী নারীরা ধর্ষণ ও অন্যান্য শারীরিক নির্যাতনের ঝুঁকিতে বেশি থাকে, কারণ অনেকেই মনে করেন তারা নিজের পক্ষে প্রতিরোধ বা প্রতিবাদ করতে অক্ষম।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, “পরিবার ও সমাজের কু-সংস্কার থেকেই প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা অবহেলিত হয়ে থাকে। সমাজে এমন ভুল ধারণাও আছে যে, প্রতিবন্ধী নারীরা সুস্থ সন্তান জন্ম দিতে পারে না এবং তারা নিজেরাই প্রতিবন্ধী সন্তান জন্ম দেবেন। এর ফলে প্রতিবন্ধী নারীদের বিবাহ ও সামাজিক স্বীকৃতিতে বাধা সৃষ্টি হয়। আমাদের সমাজকে এসব কু-সংস্কার থেকে বের করে আনতে হবে এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উন্নয়ন ও সমাজের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনার জন্য সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।”
সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয় বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় বগুড়া পর্যটন মোটেলের কনফারেন্স হলে। এটি আয়োজন করে উইমেন উইথ ডিজএ্যাবিলিটিজ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (ডাব্লিউডিডিএফ) “টাস্ক টু হার্ট: আস্ক ফর ইক্যুয়ালিটি” প্রকল্পের আওতায়, সহযোগিতা করেছে ফাউন্ডেশন ফর এ জাস্ট সোসাইটি। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক আশরাফুন্নাহার মিস্টি।
সেমিনারে জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি হিসেবে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আরাফাত হোসেন। এছাড়া বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. সাজ্জাদুল হক, বগুড়া জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক রকনুল হক। সেমিনারে কাহালু উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো: আজিজুর রহমান, সোনাতলা উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা শাহ জামাল, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মাইমুল হক ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নাজমুল হোসেনসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ডাব্লিউডিডিএফ-এর বগুড়া জেলার সমন্বয়কারী আব্দুল্লাহ আল ফয়সালের ব্যবস্থাপনায়, সংস্থার কর্মসূচি সমন্বয়কারী শারমিন আক্তার দোলন প্রতিবন্ধী নারীদের অধিকার ও অন্তর্ভুক্তি বিষয়ে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন।
বক্তারা আরও জানান, পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সমাজ সেবা বিভাগের মাধ্যমে সারা দেশে ১ কোটি ২৬ লাখাধিক মানুষকে বিভিন্ন ধরনের ভাতা প্রদান করছে সরকার। এর মধ্যে প্রায় ৪০ লাখ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ভাতা পাচ্ছেন। দেশের কাঙ্খিত উন্নয়ন ঘটাতে হলে এই বিরাট জনগোষ্ঠীকে বাদ দেওয়া যাবে না। তাদের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বিশেষায়িত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি, সমাজের মানুষের দৃষ্টিভঙ্গী পরিবর্তনই মূল চাবিকাঠি, যা প্রতিপন্ন করবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সমাজের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ