প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২১ আগস্ট, ২০২৫, ৪:৫৫ AM

আফগানিস্তানে খনিজ সম্পদ আহরণ ও বিনিয়োগ কার্যক্রম চালাতে আগ্রহী চীন। একইসঙ্গে দেশটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের বহুল আলোচিত বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভে (BRI) অন্তর্ভুক্ত করতে চায় বেইজিং।
আফগান তালেবান সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বে নেওয়া এ উদ্যোগ চীনের বৈশ্বিক প্রভাব বিস্তারের অন্যতম প্রধান কৌশল।
বর্তমানে কাবুল সফরে রয়েছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। তিনি বুধবার আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাওলাভি আমির খান মুত্তাকির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠক শেষে জানানো হয়, দুই দেশ রাজনৈতিক আস্থা বাড়ানোসহ বাণিজ্য, কৃষি ও অবকাঠামো খাতে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে একমত হয়েছে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ওয়াং আফগানিস্তানের দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে বেইজিংয়ের সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কাবুলকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়ে বলেন, শক্তিশালী নিরাপত্তা সহযোগিতা দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য অপরিহার্য।
ওয়াং আরও উল্লেখ করেন, চীন এ বছর থেকেই আফগানিস্তানে খনিজ আহরণ কার্যক্রম শুরু করতে আগ্রহী।
এ সফরে ওয়াং আফগান প্রধানমন্ত্রী মোল্লা মুহাম্মদ হাসান আখুন্দের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। আফগান প্রশাসনের উপ-মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিত্রাত জানান, আখুন্দ বৈঠকে চীনের বৈশ্বিক উন্নয়ন উদ্যোগের প্রশংসা করে আফগানিস্তানের বৈধ আন্তর্জাতিক অবস্থান সমর্থনে চীনের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
ওয়াং এবার কাবুলে অনুষ্ঠিত চীন–আফগানিস্তান–পাকিস্তান ত্রিপক্ষীয় বৈঠকেও অংশ নিচ্ছেন। যদিও চীন ও পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে তালেবান সরকারের স্বীকৃতি দেয়নি, তবে তারা কাবুলে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ করেছে এবং আফগান কূটনীতিকদের নিজ নিজ রাজধানীতে গ্রহণ করেছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর আফগানিস্তানে প্রথম রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দেয় চীনই।
বিশ্লেষকদের মতে, লিথিয়াম, তামা ও লোহার বিশাল ভাণ্ডারের কারণে আফগানিস্তান চীনের সরবরাহ চেইন নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আর সেই সম্ভাবনাই চীনকে তালেবানের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার দিকে ধাবিত করছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ