
বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, সারা কেরানীগঞ্জ মাদকের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে।
বুধবার (২০ আগস্ট) বিকেলে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আগানগর বেড়িবাঁধ এলাকায় কেরানীগঞ্জ গার্মেন্ট ব্যবসায়ী সমিতি আয়োজিত আলোচনা ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, “মাদকের এই টাকা ক্ষমতাধরদের পকেটে আসে। পুলিশ ফাঁড়ির পাশে মাদকের রমরমা ব্যবসা চলছে, তাই পুলিশ ও গোয়েন্দাদের বলব, আপনারা নীরবে সময় কাটাবেন না।”
তিনি আরও বলেন, “বিএনপির জন্মলগ্ন থেকে সংবাদমাধ্যমগুলো বিএনপির পক্ষে ছিল না। তবে দেশের জনগণ বিএনপির পক্ষে থাকায় বিএনপি পাঁচবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসেছে। গত ১৭ বছরে সাংবাদিকদের কলম কোথায় ছিল, তা কিন্তু অজানা। আমি সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি।”
গয়েশ্বর বলেন, “দেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার যতক্ষণ না আসে, সরকার সঠিকভাবে দেশ পরিচালনা করতে পারবে না। সঠিকভাবে দেশ পরিচালনার জন্য দ্রুত একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রয়োজন। বড় পদ পাওয়া সহজ, কিন্তু নেতা হওয়া অনেক কঠিন।”
তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “ভোট আমার জন্য নয়, ভোট দেবেন দেশের জন্য। ভোট আমার ব্যবসা নয়। আমি মন্ত্রী ছিলাম, আমি দলের ঊর্ধ্বে নই। কে প্রার্থী হবে তা পরে ঠিক হবে, তারপর আপনারা ধানের শীষ মার্কায় ভোট দেবেন। ধানের শীষ ও বেগম খালেদা জিয়ার জন্য কাজ করুন।”
গয়েশ্বর আরও বলেন, “কেরানীগঞ্জের গার্মেন্টস পল্লী এলাকা থেকে শতকরা ৯০ ভাগ পোশাক দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যায়। জাতীয় অর্থনীতিতে এই এলাকার গার্মেন্ট শিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাই সবাই মিলেমিশে ব্যবসা করবেন। তবে কেরানীগঞ্জে ছিনতাই, ডাকাতি, চুরি ও খুনের ঘটনা ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে।”
অনুষ্ঠানটি কেরানীগঞ্জ গার্মেন্ট মালিক সমিতির সভাপতি হাজী আনোয়ার হোসেন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিপুন রায় চৌধুরী। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন কেরানীগঞ্জ গার্মেন্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শওকত হোসেন সোনা মিয়া, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী ইশা খান, আগানগর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী আসাদ খান ও বিএনপি নেতা ঈমান উল্লাহ প্রমুখ।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ