প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২১ আগস্ট, ২০২৫, ২:১৭ AM

কুমিল্লার তিতাসে প্রতিবেশি চাচিকে তার কথিত প্রেমিকের সঙ্গে অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখে ‘কইয়া দিমু’ বলার ঘটনায় সাত বছরের শিশু আরিয়ান হোসেন সায়মন হত্যা মামলায় আদালত একজনকে মৃত্যুদণ্ড ও এক জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন।
বুধবার (২০ আগস্ট) কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক সাব্বির মাহমুদ চৌধুরী রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন বিল্লাল পাঠান (৪০) এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন শেফালী আক্তার (৪৩)। উভয়কে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১৬ আগস্ট আরিয়ান হোসেন সায়মন বাড়ি থেকে বের হয়ে কলাকান্দি গ্রামের প্লে-শ্রেণির সহপাঠী রাফির সঙ্গে খেলতে যায় এবং আর ফিরে আসে না। দুইদিন পর (১৮ আগস্ট) তার মা খোর্শেদা আক্তার তিতাস থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন। একদিন পর (১৯ আগস্ট) কলাকান্দি গ্রামের পরিত্যক্ত জমির কাশবন থেকে অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা তদন্ত শেষে আসামি শেফালী আক্তার ও বিল্লাল পাঠানকে গ্রেপ্তার করে। বিল্লাল পাঠান ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত আজ এই রায় ঘোষণা করে।
রায় শুনে নিহত শিশুর পরিবার আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং আদালতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট মো. ইকরাম হোসেন রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “শালি-দুলাভাইয়ের অন্তরঙ্গ মুহূর্ত দেখে ফেলায় আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে শিশুকে হত্যা করেছে। আশা করি উচ্চ আদালত রায় বহাল রেখে দ্রুত কার্যকর করবেন।”
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ