বেরোবি ছাত্র সংসদ নির্বাচন: প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করতে ১০ কার্যদিবস সময় চাইলেন উপাচার্য

বেরোবি
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আমরণ অনশনের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করতে আরো ১০ কার্যদিবস সময় চেয়েছেন।
গতকাল সোমবার (১৮ আগস্ট) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয় জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ছাত্র সংসদ শিক্ষার্থীদের সমস্যাগুলি চিহ্নিত ও সমাধান করার মাধ্যমে একটি সমন্বিত নেতৃত্বের সুযোগ সৃষ্টি করবে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর ছাত্র সংসদের প্রয়োজনীয়তা আরো বেড়েছে।
বর্তমান প্রশাসন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একমত ও তাদের সমস্যার সমাধানে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ভূমিকা নিশ্চিত করতে চাইছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ সংবিধি ২০০৯ সালের আইন অনুযায়ী বিদ্যমান নেই। তাই উপাচার্য ১০৮তম সিন্ডিকেট সভায় ছাত্র সংসদ গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।
এ জন্য দুটো কাজ করা হয়েছে
১. ছাত্র সংসদের নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেয়া অর্থ সংরক্ষণের জন্য আলাদা একটি ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে এবং সেখানে জমা রাখা হয়েছে। এই ব্যবস্থা আগে ছিল না। যাতে জমাকৃত টাকা শুধুমাত্র ছাত্র সংসদের জন্যই খরচ করা যায়- সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
২. ছাত্র সংসদের গঠনতন্ত্র প্রণয়নের জন্য উপাচার্য মহোদয় একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছিলেন। কমিটির সদস্যগণ ৪টি বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি, রাবি, চবি ও জাবি) থেকে গঠনতন্ত্র সংগ্রহ করে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ এবং তিনটি আবাসিক হলের জন্য আলাদা করে ছাত্র সংসদের জন্য একটি গঠনতন্ত্র প্রস্তুত করেন। যা গত ১৪ মে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন বরাবর প্রেরণ করা হয়।
গঠনতন্ত্রটি এখন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের মাধ্যমে গত ৩০ জুলাইয়ে গঠিত ৭ সদস্যবিশিষ্ট একটি বিশেষজ্ঞ কমিটির কাছে যাচাই-বাছাই ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্যে আছে। এখান থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় হয়ে গঠনতন্ত্রটি মহামান্য রাষ্ট্রপতির বরাবর যাবে।
নিয়ম অনুযায়ী এই গঠনতন্ত্রটি বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর মহামান্য রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পরে সরকারি গেজেট আকারে প্রকাশিত হবে। তারপরই এটার আলোকে তফসিল ঘোষণা করা হবে। ছাত্র সংসদ নির্বাচন আয়োজন করার আগে ছাত্র সংসদের গঠনতন্ত্র প্রণয়নের এই সকল ধাপ পর্যায়ক্রমে অতিক্রম করতে হয়।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে বিষয়টি ত্বরান্বিত করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন কর্তৃক গঠিত উক্ত বিশেষজ্ঞ কমিটির সদস্যবৃন্দের সাথে উপাচার্য মহোদয়ের একাধিকবার আলোচনা হয়েছে।
তারা নিশ্চিত করেছেন যে, জরুরিভাবে উদ্যোগ নিয়ে আগামী ১০ (দশ) কার্য দিবসের মধ্যেই খসড়া নীতিমালাটি যাচাই-বাছাই পূর্বক অনুমোদনের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিকট উপস্থাপন করবেন।
এই কাজগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করার পরে, মাননীয় উপাচার্য মহোদয় শিক্ষার্থীদের সম্মুখে গিয়ে এই প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন যে, সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই ছাত্র সংসদ এর নীতিমালা সম্পর্কিত সকল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে।
এমতাবস্থায় উপাচার্য মহোদয়, শিক্ষার্থীদের সামনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে অক্টোবর মাসের মধ্যেই ছাত্র সংসদ নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি প্রদান করেছেন।
বিধি-বিধান প্রণয়ন, ও গেজেট প্রকাশ সম্পর্কিত কাজটি যেহেতু দু'এক দিনের মধ্যে করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়, এবং কাজটি যেহেতু চলমান রয়েছে, সেহেতু অনশন করে শিক্ষার্থীদের জীবন হুমকির মধ্যে ফেলে না দিয়ে, ১০ কর্মদিবস সময় দিয়ে প্রক্রিয়াটির সাথে সহযোগিতা কামনা করেন।
একই সাথে অভিভাবক হিসেবে, তিনি শিক্ষার্থীদেরকে অনশন ভেঙ্গে খাবার গ্রহণ করার অনুরোধ করেছেন।