প্রকাশ: সোমবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৫, ৬:৪৬ পিএম

চিকিৎসকের অবহেলার কারণে প্রাণ হারালেন পাবনার আটঘরিয়ার তরুণী মুনজিলা খাতুন (১৮)। অভিযোগ, সিজারিয়ান অপারেশনের সময় তার পেটের মধ্যে গজ ব্যান্ডেজ রেখে সেলাই করা হয়েছিল।
দীর্ঘ একমাস যন্ত্রণার পর রোববার বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান তিনি।
পারিবারিক সূত্র জানায়, গত ২৭ জুলাই পাবনা শহরের হাসপাতাল রোডের দীপা ক্লিনিকে ভর্তি করা হয় মুনজিলাকে। সেখানেই পাবনা জেনারেল হাসপাতালের গাইনি বিভাগের চিকিৎসক ডা. নাজিয়া স্মরনীকা তার সিজারিয়ান অপারেশন করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, অপারেশনের সময় ভুলবশত পেটের ভেতরে গজ রেখে সেলাই করা হয়।
প্রায় ২০ দিন পর, ১৬ আগস্ট, মুনজিলার পেট ফুলে যায়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে প্রথমে পাবনা জেনারেল হাসপাতাল এবং পরে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
মুনজিলার বাবা মো. মোহামিন উদ্দিন বলেন, “ডাক্তার সিজারের সময় আমার মেয়ের পেটের মধ্যে গজ রেখে সেলাই করেছেন। সেই গাফিলতির কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।”
অন্যদিকে দীপা ক্লিনিকের মালিক দোলোয়ার হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, রোগী সুস্থ অবস্থায় ক্লিনিক থেকে বাড়ি গিয়েছিল। তিনি দাবি করেন, রোগীর পরিবার স্যানিটারি ন্যাপকিনের বদলে ন্যাকড়া ব্যবহার করায় তা ভেতরে ঢুকে যেতে পারে।
অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. নাজিয়া স্মরনীকার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
পাবনার সিভিল সার্জন ডা. আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, “ঘটনাটি আমাদের নজরে এসেছে। তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ