প্রকাশ: সোমবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৫, ১০:২৪ AM

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের অব্যাহত হামলায় আরও অন্তত ৪৭ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৪ জন মানবিক সহায়তা সংগ্রহের সময় ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে প্রাণ হারান। একই দিনে অপুষ্টি ও অনাহারে মারা গেছেন আরও ৭ জন, যাদের মধ্যে রয়েছে দুটি শিশু।
রোববার (১৭ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা আনাদোলু।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন হাসপাতালে ৪৭টি মরদেহ এবং আহত ২২৬ জনকে আনা হয়েছে। এ নিয়ে ইসরায়েলি হামলায় মোট মৃতের সংখ্যা প্রায় ৬২ হাজারে পৌঁছেছে এবং আহতের সংখ্যা ১ লাখ ৫৫ হাজার ৮৮৬ জনে দাঁড়িয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ত্রাণের খোঁজে বের হলে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে আরও ১৪ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১৩২ জনের বেশি আহত হন। এ নিয়ে গত ২৭ মে থেকে এখন পর্যন্ত সহায়তা নিতে গিয়ে মোট ১ হাজার ৯৩৮ জন নিহত এবং ১৪ হাজার ৪২০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন।
গত অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত গাজায় অপুষ্টি ও অনাহারে মারা গেছেন মোট ২৫৮ জন, যাদের মধ্যে ১১০ জন শিশু। চলমান যুদ্ধ ও অবরোধের কারণে গাজায় খাদ্য, ওষুধ ও পানি চরম সংকটে রয়েছে।
চলতি বছরের ২ মার্চ থেকে ইসরায়েল গাজার সব সীমান্ত ক্রসিং বন্ধ করে দিলে ২৪ লাখ মানুষের জন্য এক ধরনের দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
২০২৫ সালের ১৮ মার্চ ইসরায়েল গাজায় পূর্ণাঙ্গ সামরিক অভিযান শুরু করে। এর আগে জানুয়ারিতে যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময়ের একটি চুক্তি কার্যকর হয়েছিল। নতুন দফার হামলায় শুধু এই সময়েই ১০ হাজার ৪০০ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৪৩ হাজার ৮৪৫ জন আহত হয়েছেন।
গত বছরের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োয়াভ গ্যালান্ট–এর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
এছাড়া আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে)-এ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে একটি মামলা চলমান রয়েছে, যা এখনও বিচারাধীন।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম