প্রকাশ: শুক্রবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৫, ১২:১৮ পিএম

শরীয়তপুর সদরে স্থানীয় অ্যাম্বুল্যান্স সিন্ডিকেটের বাধার কারণে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই এক নবজাতক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) রাতে ঘটনার সময় শিশুটির স্বজনরা বারবার অনুরোধ করলেও প্রায় ৪০ মিনিট অ্যাম্বুল্যান্স আটকে রাখা হয়।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ডামুড্যার কনেশ্বর এলাকার নূর হোসেন সরদারের স্ত্রী রুমা বেগমকে সদরের নিউ মেট্রো ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে একটি ছেলে শিশু জন্ম দেয়। জন্মের পর শিশুটি শ্বাসকষ্টে ভুগছিল। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
হাসপাতাল থেকে শিশুটিকে ঢাকায় নিতে পাশের একটি অ্যাম্বুল্যান্স চালক মোহাম্মদ মোশারফ মিয়াকে ৫ হাজার টাকায় ভাড়া করা হয়। তবে স্থানীয় কয়েকজন অ্যাম্বুল্যান্স চালক—সবুজ দেওয়ান ও আবু তাহের দেওয়ান—গাড়ির গতিরোধ করে মোশারফ মিয়াকে নামিয়ে চাবি কেড়ে নেন এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এর ফলে অ্যাম্বুল্যান্স ৪০ মিনিট আটকে থাকে এবং শিশুটি মারা যায়।
নিহত শিশুর নানী শেফালী বেগম বলেন, “সময়মতো ঢাকায় নেওয়া যেতো, তবে ওদের কারণে আমার নাতি মারা গেছে। বিচার চাই।”
অন্য স্বজন রানু আক্তার বলেন, “আমরা ঢাকার জন্য ভাড়া দিয়েছি, তবুও স্থানীয়রা গাড়ি আটকে রেখেছে। এতে শিশুটি মারা গেছে।”
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল উদ্দিন বলেন, “ভুক্তভোগী পরিবার এখনও অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে এবং তদন্তে সিন্ডিকেট বা অন্য কোনো ব্যক্তির সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ নিজ উদ্যোগেও বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।”
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ