প্রকাশ: শুক্রবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৫, ৯:৫১ AM আপডেট: ১৫.০৮.২০২৫ ১০:৩২ এএম

ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান নিয়ে আলোচনা করতে আজ যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কার অ্যাঙ্কোরেজ শহরে বসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ছয় বছর পর এই দুই নেতা সরাসরি মুখোমুখি হচ্ছেন। বৈঠককে ঘিরে মূল প্রশ্ন— এখান থেকে কি ইউক্রেনে শান্তির কোনো অগ্রগতি আসবে, নাকি অচলাবস্থাই চলবে?
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির চেষ্টা করছেন এবং পুতিনের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে সমাধান খোঁজার আশা করছেন। তবে বৈঠকের আগের দিনই তিনি বলেছেন, সফলতার সম্ভাবনা মাত্র ২৫ শতাংশ।
ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, আলোচনায় অগ্রগতি হলে পরে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে নিয়ে দ্বিতীয় দফার বৈঠক হতে পারে। যদিও কিয়েভকে এই বৈঠকে ডাকা হয়নি, জেলেনস্কি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন— তার অনুপস্থিতিতে নেওয়া যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য হবে না।
বৈঠকটি নিরাপত্তা ও সময়ের কারণে অ্যাঙ্কোরেজের নিকটবর্তী একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হবে এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হওয়ার কথা। এটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে রাশিয়াকে দেওয়া ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির সময়সীমা শেষ হওয়ার এক সপ্তাহ আগে, যার পর তিনি কঠোর নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছেন।
ট্রাম্পের ‘অঞ্চল বিনিময়’ মন্তব্যে কিয়েভ উদ্বিগ্ন, কারণ এতে দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন ও জাপোরিঝঝিয়ার মতো দখলকৃত অঞ্চল নিয়ে রাশিয়ার দাবির প্রতি নমনীয়তা দেখা যেতে পারে। রাশিয়া বলেছে, যুদ্ধ থামবে তখনই, যখন এই অঞ্চলগুলো পুরোপুরি তাদের নিয়ন্ত্রণে যাবে এবং ইউক্রেন ন্যাটোতে যোগ না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেবে।
ট্রাম্প মনে করেন, তার সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক সমঝোতার পথ খুলে দিতে পারে এবং তাকে বৈশ্বিক শান্তিদূতের আসনে বসাতে পারে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, মূল বাধা হলো— পুতিনের ‘ইউক্রেনের ভূরাজনৈতিক নিরপেক্ষতা’ নিশ্চিত করার কঠোর অবস্থান।
সব মিলিয়ে, আলাস্কার এই বৈঠক দুই নেতাকে একই টেবিলে বসালেও, বাস্তব কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো হবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ