
১৯০৬ সালে থিওডোর রুজভেল্টের পর থেকে কোনো রিপাবলিকান মার্কিন প্রেসিডেন্ট নোবেল শান্তি পুরস্কার পাননি। এবার মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এ পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দিয়েছে একাধিক দেশ ও নেতা। একই সঙ্গে দেশ-বিদেশের সমর্থকরা তার পক্ষে আনুষ্ঠানিক মনোনয়নও জমা দিয়েছেন।
পাকিস্তান চলতি বছরের ২০ জুন ট্রাম্পকে মনোনয়ন দেওয়ার ঘোষণা দেয়। ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের সময় তার ‘নির্ধারক কূটনৈতিক হস্তক্ষেপ ও নেতৃত্ব’-এর স্বীকৃতি হিসেবে পাকিস্তান এ সিদ্ধান্ত নেয়।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জুলাই মাসে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পকে একটি চিঠি দেন, যা নোবেল কমিটিতে পাঠিয়ে মনোনয়ন হিসেবে দাখিল করা হয়।
কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেট ৭ আগস্ট জানান, থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়ার সীমান্ত সংঘাতে (যেখানে ৪০ জনের বেশি নিহত এবং প্রায় তিন লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হন) স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করায় তিনি ট্রাম্পকে মনোনয়ন দিয়েছেন।
তার ভাষায়, “ কূটনীতির মাধ্যমে শান্তির ধারাবাহিক প্রচেষ্টা আলফ্রেড নোবেলের দর্শনের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ।”
আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানও ট্রাম্পের মনোনয়নকে সমর্থন করেছে। ৮ আগস্ট হোয়াইট হাউসে আয়োজিত বৈঠকে দুই দেশের নেতারা মার্কিন মধ্যস্থতায় হওয়া শান্তি চুক্তির প্রশংসা করে তার প্রার্থিতার পক্ষে মত দেন।
আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাসিনিয়ান বলেন, “আমি মনে করি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নোবেল শান্তি পুরস্কারের যোগ্য এবং আমরা তা প্রচার করব।”
রুয়ান্ডা ও গ্যাবনের নেতারাও ট্রাম্পকে সমর্থন জানিয়েছেন। তারা দাবি করেন, রুয়ান্ডা ও কঙ্গোর প্রজাতন্ত্রের দীর্ঘদিনের সংঘাত সমাধানে ট্রাম্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। রুয়ান্ডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী অলিভিয়ার নডুহুংগিরেহ বলেন, “যে কেউ এই সংঘাত শেষ করতে সহায়তা করে, সে নোবেল শান্তি পুরস্কারের যোগ্য, ট্রাম্পও এর ব্যতিক্রম নন।”
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার রিপাবলিকান প্রতিনিধি বাডি কার্টার ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধবিরতি ফ্রেমওয়ার্কে ট্রাম্পের ভূমিকার জন্য মনোনয়নের সুপারিশ করেছেন।
নিউইয়র্কের রিপাবলিকান প্রতিনিধি ক্লাউডিয়া টেননি এই বছরই দুইবার ট্রাম্পকে মনোনয়ন দিয়ে বলেছেন, তিনি পুরস্কার না পাওয়া পর্যন্ত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবেন।
রিপাবলিকান সিনেটর বার্নি মোরেনো (ওহাইও) ও মার্শা ব্ল্যাকবার্ন (টেনেসি) প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন।
নরওয়ের আইন বিশেষজ্ঞ অ্যান্টা আলন-বেক ফেব্রুয়ারিতে গাজার যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময় চুক্তিতে ট্রাম্পের ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে মনোনয়ন দেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ