
আজ ২৫ সেপ্টেম্বর বিশ্ব ফুসফুস দিবস। শরীরে অক্সিজেন সরবরাহ এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড বের করে দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে ফুসফুস। কিন্তু ধূমপান, বায়ুদূষণ ও নানা পরিবেশগত কারণে প্রতিনিয়ত ঝুঁকিতে পড়ছে এই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ।
ফুসফুসের স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যেই প্রতিবছর ২৫ সেপ্টেম্বর বিশ্ব ফুসফুস দিবস পালিত হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২৬ সালে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে দীর্ঘস্থায়ী বাধাজনিত ফুসফুসের রোগ বা সিওপিডির সঙ্গে প্রায় ৩৪ লাখ মানুষের মৃত্যুর সম্পর্ক ছিল। একই সময়ে বিশ্বে আনুমানিক ৩৬ কোটি ৩০ লাখ মানুষ হাঁপানিতে আক্রান্ত ছিলেন এবং এ রোগে প্রায় ৪ লাখ ৪২ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়।
ফুসফুসের ক্ষতির অন্যতম বড় কারণ ধূমপান। সিগারেট, বিড়ি, চুরুট কিংবা হুক্কার ধোঁয়া দীর্ঘদিন গ্রহণ করলে সিওপিডি, দীর্ঘস্থায়ী ব্রঙ্কাইটিস, এমফিসেমা ও ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে। শুধু সরাসরি ধূমপানই নয়, পরোক্ষ ধূমপানের ধোঁয়াও শ্বাসতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর।
এ ছাড়া যানবাহনের ধোঁয়া, শিল্পকারখানার নির্গমন, নির্মাণকাজের ধুলা এবং আবর্জনা পোড়ানোর ধোঁয়াও ফুসফুসের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ঘরের পরিবেশও গুরুত্বপূর্ণ। কাঠ বা কয়লার মতো জ্বালানি দিয়ে রান্নার সময় পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল না থাকলে ঘরে জমে থাকা ধোঁয়া দীর্ঘমেয়াদে শ্বাসতন্ত্রের নানা সমস্যা তৈরি করতে পারে। এ ধরনের ঝুঁকিতে শিশু, নারী ও বয়স্করা তুলনামূলক বেশি পড়তে পারেন।
ফুসফুসের সমস্যার লক্ষণ ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। দীর্ঘদিন কাশি, কফ, বারবার শ্বাসকষ্ট, সামান্য পরিশ্রমেই হাঁপিয়ে যাওয়া, শ্বাস নেওয়ার সময় শব্দ হওয়া, বুক ভার লাগা কিংবা ঘন ঘন শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ হলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
এ ছাড়া দীর্ঘস্থায়ী কাশি, জ্বর, রাতে ঘাম এবং অকারণে ওজন কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে যক্ষ্মার বিষয়টিও বিবেচনা করা দরকার।
ফুসফুস ভালো রাখার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলো ধূমপান ও তামাকজাত পণ্য থেকে দূরে থাকা। ঘরে ধোঁয়ামুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা, বায়ুদূষণ যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা এবং ঘরে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা করাও জরুরি। সংক্রমণ প্রতিরোধে নিয়মিত হাত ধোয়া ও প্রয়োজনীয় টিকা নেওয়া এবং নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রমও সামগ্রিক সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।
তবে দীর্ঘস্থায়ী বা তীব্র শ্বাসকষ্টকে অবহেলা করা উচিত নয়। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক বুকের এক্স-রে, সিটি স্ক্যান, স্পাইরোমেট্রি, রক্ত বা কফ পরীক্ষা করতে পারেন।
হঠাৎ তীব্র শ্বাসকষ্ট, ঠোঁট নীলচে হয়ে যাওয়া, তীব্র বুকব্যথা কিংবা কাশির সঙ্গে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রক্ত গেলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।
ফুসফুসের যত্ন শুধু একটি দিনের সচেতনতার বিষয় নয়। ধূমপানমুক্ত ও তুলনামূলক পরিষ্কার পরিবেশ, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে ফুসফুসকে সুস্থ রাখার চেষ্টা করা জরুরি।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি