
নোয়াখালী সিভিল সার্জন অফিস
নোয়াখালী সিভিল সার্জন অফিসের সাম্প্রতিক আউটসোর্সিং দরপত্র প্রক্রিয়ায় পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে মনগড়া ও পক্ষপাতমূলক শর্ত সংযোজনের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, টেন্ডারের শর্তাবলিতে এমন সকল প্রয়োজনীয়তা যুক্ত করা হয়েছে যা নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদার ছাড়া অন্যদের পক্ষে পূরণ করা প্রায় অসম্ভব।
সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ জুলাই জনবল সরবরাহে ঠিকাদার নিয়োগের জন্য দরপত্র আহ্বান করে নোয়াখালী সিভিল সার্জন অফিস।
এ বিষয়ে কয়েকজন দরপত্র ক্রেতা অভিযোগ করে বলেন, “টেন্ডারের শর্তগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে প্রতিযোগিতা সীমিত হয়ে যায় এবং পূর্বনির্ধারিত ব্যক্তিই কাজটি পান। ইতোমধ্যে সিভিল সার্জন অফিসের ৩ সদস্য বিশিষ্ট সিন্ডিকেট এক ঠিকাদারকে কাজ দেয়ার জন্য একাধিকবার মিটিং করেছে।”
দরপত্র পাওয়া যোগ্যতার শর্তাবলীতে বলা হয়েছে, ব্যাংক স্টেটমেন্টে গত অর্থবছরে ১ কোটি টাকা লেনদেন এবং নোটিশ জারির পর একই অঙ্ক ব্যাংকে স্থিতি থাকতে হবে।
দরপত্র ক্রেতারা অভিযোগ করেছেন, শর্তগুলো এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে প্রতিযোগিতা সীমিত হয়ে পছন্দের ঠিকাদারকেই কাজ দেওয়া যায়। তাদের দাবি, সিভিল সার্জন অফিসের একটি চক্র এই প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করছে। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের আমলে এই চক্রটি একই প্রতিষ্ঠানকে টানা তিন অর্থবছরে কাজ পাইয়ে দিয়েছিল। গণঅভ্যুত্থানের পর কিছুদিন নীরব থাকলেও এখন আবার সক্রিয় হয়ে অপ্রয়োজনীয় শর্ত দিয়ে প্রতিযোগিতা সীমিত করে পূর্বের ঠিকাদারদের সুবিধা দিচ্ছে।
অভিযোগকারীরা জানান, অফিসের ভেতরে ও বাইরে এই তিন সদস্যবিশিষ্ট সিন্ডিকেট একাধিকবার বৈঠক করেছে এবং এক ঠিকাদারকে কাজ দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করেছে।
দরপত্রের শর্তাবলীতে যাচাই করে দেখা যায়, দরপত্র সিকিউরিটি হিসেবে ১০% পে-অর্ডারের পাশাপাশি বায়না বাবদ পে-অর্ডার চাওয়া হয়েছে, যা পিপিআর শর্তাবলীতে নেই। ঠিকাদারের যোগ্যতায় ১২ ডিজিটের ভ্যাট নিবন্ধনের সনদ চাওয়া হয়েছে, যদিও বর্তমানে এটি ১৩ ডিজিটের। পিপিআর বিধি ৯০ (জ) ধারা অনুযায়ী নিজস্ব ওয়েবসাইটে দরপত্র প্রকাশের বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা করা হয়নি। পিপিআর তফসিল-২ এর ৯০ (ঝ) অনুযায়ী ৫০ লাখ টাকার বেশি দরপত্র সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিটে প্রকাশের নিয়ম থাকলেও এর প্রমাণ সিভিল সার্জন অফিস দেখাতে পারেনি। এবং নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঠিকাদার জানান, সিভিল সার্জন অফিসের প্রধান সহকারী ফিরোজ আলমের পৃষপোষকতায় এই সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঠিকাদার দাবি করেন, অফিসের প্রধান সহকারী ফিরোজ আলমের পৃষ্ঠপোষকতায় সিন্ডিকেটটি পরিচালিত হচ্ছে। তার মতে, এ ধরনের অনিয়ম প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ক্ষুণ্ণ করে এবং সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার ব্যাহত হয়। তিনি দ্রুত তদন্ত করে সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে সিভিল সার্জন ডা. মরিয়ম সিমি বলেন, “দরপত্রের বিষয়ে আমি অভিজ্ঞ নই। আপনাদের কাছ থেকে অভিযোগগুলো শুনেছি, যাচাই করে ব্যবস্থা নেব।”
শর্তগুলো পিপিআর মেনে দেওয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বিষয়টি জেনে পরে জানাবো।” সিন্ডিকেট থাকার বিষয়ে তিনি দাবি করেন, “আগে সিন্ডিকেট ছিল, কিন্তু এখন তাদের বদলি করে দেয়া হয়েছে।”
চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, “দরপত্রের সব কিছু নিয়ম মেনে হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দেওয়া হবে, আর নিয়ম ভঙ্গ হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।”