প্রকাশ: বুধবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৫, ৬:১২ পিএম

বিচার বিভাগের নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টে জারি করা রুলের চূড়ান্ত শুনানি সম্পন্ন হয়েছে। হাইকোর্ট আগামী ২ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে রায় ঘোষণা করবে।
বুধবার (১৩ আগস্ট) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রায়ের জন্য এদিন ধার্য করেন। রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির, রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, এবং ইন্টারভেনর হিসেবে অংশ নেন অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম।
এর আগে, গত ২৩ এপ্রিল ১১৬ অনুচ্ছেদের বৈধতা সংক্রান্ত রুলের চূড়ান্ত শুনানি শুরু হয়েছিল। মূল রিট আবেদন দায়ের করা হয় ১৯৭২ সালের সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ পুনর্বহালের নির্দেশনা চেয়ে। আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির গত বছরের ২৫ আগস্ট ১০ জন আইনজীবীর পক্ষে হাইকোর্টে রিটটি দায়ের করেন। পরে হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চায়—বিদ্যমান সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না।
বর্তমানে প্রযোজ্য সংশোধিত সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, অধস্তন আদালতের দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ—যেমন কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতি, ছুটি মঞ্জুরি এবং শৃঙ্খলা বিধান—রাষ্ট্রপতির অধীনে রয়েছে। কিন্তু ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানে বলা হয়েছিল, বিচারকর্মবিভাগে নিযুক্ত বিচারক এবং ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বিধান সুপ্রিম কোর্টের অধীনে থাকবে।
এই ভিন্নতার কারণে, বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়োগ, পদায়ন, বদলি, পদোন্নতি, ছুটি ও শৃঙ্খলাবিধিতে নির্বাহী বিভাগের প্রভাব রয়েছে। বিষয়টি বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ