প্রকাশ: সোমবার, ১১ আগস্ট, ২০২৫, ৮:২২ পিএম

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল বেতকা ও রাখালগাছির প্রায় ৩ হাজার মানুষ প্রতিদিন নৌকায় পদ্মা নদী পাড়ি দিয়ে যাতায়াত করছেন। সেতু ও সড়কপথ না থাকায়, বছরের বেশিরভাগ সময়ই তাদের একমাত্র ভরসা ইঞ্জিনচালিত নৌকা।
বর্ষাকালে পদ্মার পানি বাড়লে নৌপথের দূরত্ব হয়ে যায় প্রায় ৩০ কিলোমিটার, আর শুষ্ক মৌসুমে তা কমে দাঁড়ায় ২০ কিলোমিটারে। প্রতিদিন গোয়ালন্দ উপজেলার ছোট ভাকলা ইউনিয়নের অন্তর মোড় ঘাট থেকে বেতকা-রাখালগাছির পথে ঝুঁকিপূর্ণভাবে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে চলে ট্রলার।
সরেজমিনে দেখা গেছে, অন্তর মোড় ঘাটে নেই কোনো যাত্রীছাউনি। নদী পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীরা রোদ-বৃষ্টিতে ভিজে অপেক্ষা করছেন। খেয়াঘাটে রয়েছে কয়েকটি ছোট দোকান আর ইজারাদারের লোকজন। রাস্তাঘাটের অবস্থাও খুব খারাপ- এক পাশে অটো রিকশা ঢুকলে অন্য দিক থেকে গাড়ি আসতে পারে না।
পাবনার বেড়া এলাকার সুজন সরদার বলেন, ‘জরুরি কাজ থাকায় গত শুক্রবার রাজবাড়ী এসেছিলাম। কাজ শেষে করে বেলা ১১টার দিকে বাড়ির উদ্দেশে রওনা করেছি। সড়কপথের চেয়ে রাজবাড়ী শহর থেকে মাত্র ৪০ টাকায় অন্তারমোড় ঘাটে আসলাম। এরপর এক ঘণ্টার মতো নৌকায় নদী পাড়ি দিয়ে রাখালগাছি পাকা সড়কে নামব। সেখান থেকে অল্প সময়ের মধ্যে বাড়ি ফিরে যাব।’
নৌকার মাঝি ইছাক শেখ বলেন, ‘প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ১২টি ট্রলার চলে। মাঝে মধ্যে ঝড়-বৃষ্টিতে যাত্রী নিয়ে বিপদে পড়তে হয়। সন্তান প্রসব বা অসুস্থতায় রাতেও নদী পাড়ি দিতে হয়।’
খেয়াঘাটের ইজারাদার মিনাল সরদারের পরিবারের একজন জানান, আমরা ৭ লাখ টাকায় ইজারা নিয়েছি। যাত্রীদের বসার জায়গা বা রাস্তাঘাটের উন্নয়ন না থাকায় কষ্ট হয়। প্রশাসনের উচিত এখানে একটি যাত্রীছাউনি ও রাস্তার সংস্কার করা।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাহিদুর রহমান বলেন, ‘এখানে প্রতিদিন ২-৩ হাজার মানুষ যাতায়াত করে। রাখালগাছির পাশেই পাবনার ঢালারচর রেলস্টেশন রয়েছে। এই রুটে একটি সেতু হলে পাবনা-রাজবাড়ীর মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপন হবে।’
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম