প্রকাশ: রবিবার, ১০ আগস্ট, ২০২৫, ৭:৫৩ পিএম আপডেট: ১০.০৮.২০২৫ ৭:৫৬ PM

ঢাকার আদালতগুলোতে বর্তমানে ১ লাখ ২০ হাজারের বেশি চেক প্রত্যাখ্যান (চেক ডিসঅনার) মামলা ঝুলে আছে।
প্রতি বছর নিষ্পত্তির তুলনায় নতুন মামলা বেশি আসায় জট ক্রমেই বাড়ছে, আর বিচার প্রার্থীরা বছরের পর বছর ঘুরেও পাচ্ছেন না রায়।
মোহাম্মদ রায়হান নোমান এরকমই একজন ভুক্তভোগী। ২০১৮ সালে দেড় লাখ টাকার একটি চেক প্রত্যাখ্যান মামলা করেছিলেন তিনি। ভেবেছিলেন দ্রুত টাকা ফেরত পাবেন, কিন্তু সাত বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়নি। “তারিখের পর তারিখ পাচ্ছি, কিন্তু শুনানি এগোচ্ছে না। ধৈর্য হারিয়ে ফেলছি,” বলেন তিনি।
আদালত সূত্র জানায়, ঢাকার মহানগর দায়রা আদালতের আটটি যুগ্ম আদালতে এসব মামলার বিচার হয়। প্রতিটি আদালতে ১৫-১৭ হাজার মামলা রয়েছে। বছরের প্রথম ছয় মাসেই ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে আরও ১২ হাজার নতুন মামলা এসেছে। শুনানির তারিখ বছরে একবারের বেশি পাওয়া দুষ্কর হওয়ায় একটি মামলার দশটি শুনানি শেষ করতেও প্রায় দশ বছর লেগে যায়।
ফারহান হোসেন, আরেক বাদী, গত ৯ বছর ধরে পাঁচ লাখ টাকার একটি মামলায় আদালতের বারান্দায় ঘুরছেন। তার অভিযোগ—“বিচারের চেয়ে হয়রানিই বেশি হচ্ছে। আসামিপক্ষ নানা অজুহাতে সময় নিচ্ছে, আর আদালতের চাপে বিচারকরা দ্রুত শুনানি দিতে পারছেন না।”
ঢাকার ৭ম যুগ্ম মহানগর দায়রা আদালতের এক কর্মকর্তা জানান, এখানে প্রায় ১৮ হাজার মামলা রয়েছে, এর মধ্যে ১৫ বছর আগের মামলাও আছে। কর্মী সংকট ও আদালতের স্বল্পতা মামলার জট আরও বাড়াচ্ছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ