প্রকাশ: শনিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৫, ১০:০৬ পিএম

নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুবি) পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস। খুবির আদিবাসী ছাত্র কল্যাণ সংস্থার উদ্যোগে শনিবার (৯ আগস্ট) এই দিনটি উদযাপিত হয়। দিনব্যাপী আয়োজনের মধ্যে ছিল আলোকচিত্র প্রদর্শনী, আলোচনা সভা এবং তথ্যচিত্র প্রদর্শন।
দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়াতে শুরু হয় আলোকচিত্র প্রদর্শনী, যেখানে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতি তুলে ধরা হয়। বিকেলে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইতিহাস ও সভ্যতা ডিসিপ্লিনের সহকারী অধ্যাপক আবুল বাশার নাহিদ।
তিনি বলেন, "আজকের এই বিশেষ দিনে আমরা কেবল একটি দিবস উদযাপন করছি না, বরং আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অদম্য স্পৃহা ও বাস্তবতাকে তুলে ধরছি। এই মানুষগুলো দীর্ঘকাল ধরে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, এবং ভূমির অধিকারের মতো মৌলিক ক্ষেত্রে গভীর বৈষম্য ও বঞ্চনার শিকার। তাদের জীবন সংগ্রামের এক জ্বলন্ত ইতিহাস। তবুও, প্রতিকূলতার মুখে তারা কখনও হার মানেননি। নিজেদের অস্তিত্ব, অধিকার এবং মর্যাদার জন্য তারা নিরন্তর সংগ্রাম করে চলেছেন। তাদের ভাষা, পোশাক, লোকাচার, আর লোককথার মধ্যে তারা সযত্নে ধারণ করে আছেন এক অনন্য সংস্কৃতি, যা আমাদের দেশের বৈচিত্র্য ও ঐতিহ্যের এক অমূল্য অংশ। এই সংস্কৃতি কেবল তাদের নিজস্ব সম্পদ নয়, বরং আমাদের জাতীয় পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন গণিত ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী ও সংগঠনের সভাপতি উইনুপ্রু চৌধুরী (মারমা)। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাবেক সভাপতি তেমিয় চাকমা। এছাড়া শিক্ষার্থীদের পক্ষে নিজেদের সংকট ও সংগ্রামের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। তাদের মধ্যে ছিলেন ২১ ব্যাচের শুভ মুন্ডা, ২৩ ব্যাচের অমিক চাকমা ও রেশমি চাকমা, ২৪ ব্যাচের লিমন মাহাতো এবং ২৫ ব্যাচের সাচিং চৌধুরী (মারমা)।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সীমান্ত চাকমা মিশুক। আলোচনা সভার পর সন্ধ্যায় আদিবাসীদের জীবনচিত্রের ওপর একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
উল্লেখ্য, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে আদিবাসী কল্যাণ সমিতির যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০০৭ সালে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর