
সপ্তাহের শেষ দিনে ভারতের শেয়ারবাজারে বড় পতনের সঙ্গেই শেষ হলো সপ্তাহটি। শুক্রবার সেনসেক্স, নিফটি ৫০ ও ব্যাংক নিফটি—এই তিন প্রধান সূচকেরই প্রায় ১ শতাংশের মতো পতন ঘটেছে। দিন শেষে সেনসেক্স দাঁড়ায় ৭৯,৮৫৭.৭৯ পয়েন্টে (-৭৬৫.৪৭), নিফটি ৫০ থাকে ২৪,৩৬৩.৩০ (-২৩২.৮৫) এবং ব্যাংক নিফটি ৫৫,০০৪.৯০ (-৫১৬.২৫) পয়েন্টে।
বিএসই-তে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মোট বাজারমূল্য প্রায় ৪৪৫ লাখ কোটি রুপি থেকে কমে প্রায় ৪৪০ লাখ কোটি রুপিতে নেমে গেছে। মাত্র একদিনে বাজারমূলধন প্রায় পাঁচ লাখ কোটি রুপি কমে যাওয়ায় সব খাতেই শেয়ার বিক্রি বেড়েছে। চলতি বছর শেয়ারবাজারে টানা ছয় সপ্তাহ ধরে পতন অব্যাহত রয়েছে।
গতকাল বিশেষত এইচডিএফসি ও ভারতীয় এয়ারটেলের শেয়ারগুলোতে বড় ধস পড়ে সূচকের পতন ত্বরান্বিত হয়। নিফটির অধিকাংশ খাতে গত সপ্তাহেও বড় পতন হয়েছে। নিফটি স্মল ক্যাপ ও মিড ক্যাপ যথাক্রমে ১.৪ শতাংশ ও ১.১ শতাংশ কমেছে। যদিও ব্যাংক খাত কিছুটা ভালো অবস্থানে ছিল এবং ধাতু খাতেও সামান্য লাভ হয়েছে। অন্যদিকে, আইটি, ফাইন্যান্স, জ্বালানি, তেল ও গ্যাস, এফএমসিজি ও ওষুধ খাতের শেয়ারগুলোতে উল্লেখযোগ্য পতন ঘটেছে।
গত সপ্তাহে আদানি এন্টারপ্রাইজের শেয়ারের দাম প্রায় ৭ শতাংশ কমেছে। পাশাপাশি কেপিআর মিল, গোকলদাস এক্সপোর্ট, বর্ধমান টেক্সটাইল, ট্রিডেন্টের শেয়ারগুলোতেও বড় ধস নেমেছে। তবে হিরো মোটোকর্প ও এলআইসির শেয়ারের দাম বেড়েছে।
দ্য মিন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শুল্ক নীতির প্রভাবে ভারতের বাজার ইতিমধ্যেই দুর্বল হয়ে পড়েছে। রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব, অতিমূল্যায়ন এবং বিদেশি পুঁজি প্রস্থানের ফলে বাজারের অনিশ্চয়তা বাড়ছে। সাম্প্রতিক শুল্ক আরোপ ও কঠোর অবস্থানের কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের কারণে ভারতের জিডিপি ১ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে।
জিওজিত ইনভেস্টমেন্টসের গবেষণা প্রধান বিনোদ নায়ার বলেন, মার্কিন শুল্ক ভারতের রপ্তানিতে কিরূপ প্রভাব ফেলবে—এ উদ্বেগের কারণে শেয়ারবাজার তিন মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের টানা বিক্রির ফলে সূচকের ওপর চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে।
নায়ার আরও জানান, শুল্কের প্রভাব বিবেচনায় আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমাচ্ছে। ২০২৫ ও ২০২৬ সালের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসও সংশোধন করা হয়েছে। ফলে ভারতের বাণিজ্য ও সামষ্টিক অর্থনীতির অনিশ্চয়তা বাড়ছে।
এদিকে, ভারতের শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগেও ধাক্কা পড়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ভারতের বাজার থেকে বিপুল পরিমাণ বিদেশি পুঁজি বেরিয়ে গেছে। মার্চের পর কিছুটা পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলেও জুলাই থেকে আবার বিদেশি বিনিয়োগ কমে এসেছে। ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের কারণে আগস্টেও এই প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ