প্রকাশ: শনিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৫, ৫:৪৩ পিএম

ইসরাইল ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকাকে পুরোপুরি দখলের পরিকল্পনা করেছে বলে ঘোষণার পর তীব্র সমালোচনার মুখে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে বলেছেন, তাদের আসল উদ্দেশ্য গাজা দখল করা নয়, বরং উপত্যকাকে হামাসের নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত করে শান্তিপূর্ণ সরকার গঠনের সুযোগ সৃষ্টি করা।
গত বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) নিজ উদ্যোগে গাজা দখল নেয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন নেতানিয়াহু। এর পরদিন ইসরাইলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ পরিকল্পনা অনুমোদিত হয়। তবে এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও ইসরাইলের বিরোধী দলসহ বিভিন্ন পক্ষের তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয়। হামাসের হাতে বন্দি পরিবারগুলোও এই পরিকল্পনায় অসন্তোষ প্রকাশ করে।
জার্মানি সামরিক সরঞ্জাম রফতানি স্থগিতের ঘোষণা দেয়। চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যার্টস জানান, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত গাজায় ব্যবহৃত হতে পারে এমন সামরিক সরঞ্জাম ইসরাইলে রফতানি করা হবে না।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ইসরাইলের গাজা দখলের পরিকল্পনাকে ভুল উল্লেখ করে তা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এটিকে ফিলিস্তিনিদের ঝুঁকি বাড়ানোর পরিকল্পনা হিসেবে আখ্যায়িত করেন। জাতিসংঘে নিযুক্ত ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত রিয়াদ মানসুর বলেন, গাজাবাসী যুদ্ধ বা গণহত্যা চান না।
জাতিসংঘ মানবাধিকার প্রধান ফলকার টুর্ক সতর্ক করে বলেন, গাজা দখলের ইসরাইলি পরিকল্পনা আরও মৃত্যু ও কষ্ট বাড়াবে এবং তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কানি এটিকে ভুল সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেছেন।
প্রচণ্ড প্রতিক্রিয়ার পর নেতানিয়াহু বলছেন, “আমাদের লক্ষ্য গাজা দখল নয়, বরং উপত্যকাকে হামাস থেকে মুক্ত করা এবং সেখানে একটি শান্তিপূর্ণ সরকার গঠনের সুযোগ তৈরি করা।”
এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানায়, নতুন পরিকল্পনার অধীনে ইসরাইলের সেনাবাহিনী গাজা শহরের পুরো দখল নেবে, তবে যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরে বেসামরিকদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত থাকবে। নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা গাজা নিরস্ত্রীকরণ এবং বিকল্প বেসামরিক প্রশাসন প্রতিষ্ঠার মতো পাঁচটি নীতি গ্রহণ করেছে, যা হামাস বা ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের অধীনে থাকবে না।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ