প্রকাশ: শুক্রবার, ৮ আগস্ট, ২০২৫, ৯:৪৬ পিএম

খেলাধুলার জনপ্রিয় টুয়েন্টি টুয়েন্টি ক্রিকেটের মতোই স্বল্প সময়ে ফলন দেয়ার কারণে জয়পুরহাটের পাঁচবিবির প্রত্যন্ত এলাকায় ‘বিজলী টুয়েন্টি টুয়েন্টি’ জাতের মরিচ চাষ করে সাড়া ফেলেছেন কৃষক মোস্তফা কামাল। অন্যের জমিতে এই জাতের মরিচ চাষ দেখে আগ্রহী হয়ে নিজের ৫৭ শতক জমিতে চাষ শুরু করেন তিনি এবং প্রথম বছরেই প্রায় ৩ লক্ষাধিক টাকা আয় করেন।
আশাতীত লাভে উৎসাহিত হয়ে এবার নতুন করে ৫০ শতক জমিতে মরিচ চাষ শুরু করেছেন মোস্তফা কামাল। তিনি উপজেলার আওলাই ইউনিয়নের নওগাঁ কাঠালী গ্রামের মৃত ফজলুর রহমানের ছেলে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কালচে সবুজ পাতায় ঢাকা মরিচের গাছে চার পাঁচ জন মহিলা ক্ষেতের পরিচর্যা ও মরিচ উত্তোলন করছেন, আর কৃষক মোস্তফা নিজেও তাদের সঙ্গে মাঠে কাজ করছেন।
মোস্তফা জানান, গত বছর গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ডালিম গ্রামের আব্দুল কুদ্দুসের লাগানো মরিচ দেখে তিনি এ চাষে আগ্রহী হন। ইউনিয়ন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে প্রথমে ৫৭ শতক জমিতে মরিচ চাষ শুরু করেন। জমি প্রস্তুতি, চারা ক্রয়, শ্রমিক ও অন্যান্য খরচ বাবদ প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা ব্যয় করেন। চারা সংগ্রহ করেন আয়মারসুলপুর ইউনিয়নের মুন্না নার্সারী থেকে। প্রথম ধাপে ৯ হাজার চারা রোপণ করেন।
মোস্তফার তথ্য অনুযায়ী, অন্যান্য জাতের মরিচের ফলন পেতে আড়াই থেকে তিন মাস সময় লাগে, কিন্তু ‘বিজলী টুয়েন্টি টুয়েন্টি’ জাতের মরিচ রোপনের ৬০ থেকে ৬৫ দিনের মধ্যে ফলন দেয়। প্রথম চালানে তিনি জমি থেকে ৪০ মন মরিচ উত্তোলন করেন, যা বিক্রি করে প্রায় ৪০ হাজার টাকা আয় করেন। এরপর ধাপে ধাপে মরিচ উত্তোলন করে এ পর্যন্ত প্রায় ৩ লক্ষ টাকা বিক্রি করেছেন। আবহাওয়া ভালো থাকলে চলতি মৌসুমে আরও দেড় থেকে দুই লাখ টাকার বিক্রির আশা করছেন তিনি।
মোস্তফা কামাল বলেন, “আমার এই মরিচ ক্ষেত থেকে ১৫ লক্ষ টাকা বিক্রির লক্ষ ছিল। তবে আবহাওয়ার কারণে কিছু গাছ নষ্ট হওয়া ও বাজারে মূল্য কম থাকায় লক্ষ্য পূরণ হয়নি। তারপরেও মোটামুটি ভালো লাভ হয়েছে। তাই নতুন করে আরও ৫০ শতক জমিতে মরিচ চাষ শুরু করেছি।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ জসিম উদ্দিন জানান, মরিচ একটি লাভজনক মসলা জাতীয় ফসল। এ বছর আবহাওয়া প্রতিকূল থাকলেও বাজার মূল্য ভালো থাকার কারণে কৃষকরা মরিচ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পাঁচবিবি থেকে মরিচের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য কৃষকদের কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ