প্রকাশ: শুক্রবার, ৮ আগস্ট, ২০২৫, ৬:৪৪ পিএম আপডেট: ০৮.০৮.২০২৫ ৭:২৪ PM

ইরানে কোলসুম আকবারি নামে এক নারীর বিরুদ্ধে ভয়াবহ অভিযোগে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২২ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি পরিকল্পিতভাবে তার ১১ জন স্বামীকে বিষ প্রয়োগে হত্যা করেছেন। আদালতে তার বিরুদ্ধে ১১টি প্রথম ডিগ্রির হত্যা এবং একটি হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে।
সরকারি নথিতে দেখা যায়, আকবারির বয়স ৫০-এর কোঠায় হলেও ভুক্তভোগীদের পরিবারের দাবি—আসল বয়স আরও বেশি। মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০০১ সাল থেকে তিনি বয়স্ক পুরুষদের টার্গেট করে বিয়ে করতেন এবং ধীরে ধীরে বিষ প্রয়োগে হত্যা করতেন। উদ্দেশ্য ছিল—উত্তরাধিকার, দেনমোহর ও বিবাহ-পরবর্তী সম্পদ দখল। অধিকাংশ মৃত্যুই বয়স ও অসুস্থতার আড়ালে “স্বাভাবিক মৃত্যু” বলে ধরা হতো।
২০২৩ সালে আজিজুল্লাহ বাবায়ি নামে এক প্রবীণ ব্যক্তির রহস্যজনক মৃত্যু বিষয়টি তদন্তের পথে আনে। তার পরিবারের সন্দেহে ময়নাতদন্তের আবেদন করা হয়। যদিও প্রথমে কোনো প্রমাণ মেলেনি, পরে এক পারিবারিক বন্ধুর সাক্ষ্য মামলার গতিপথ বদলে দেয়। ওই ব্যক্তি জানান, তার বাবা একসময় আকবারির স্বামী ছিলেন এবং তাকেও বিষ প্রয়োগের চেষ্টা করা হয়েছিল। ভাগ্যক্রমে বেঁচে গিয়ে তিনি আকবারিকে তালাক দেন।
আকবারির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ডায়াবেটিস ও যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধির ওষুধের সঙ্গে বিষাক্ত উপাদান মিশিয়ে স্বামীদের খাওয়াতেন। কিছু ক্ষেত্রে অজ্ঞান করে তোয়ালে দিয়ে শ্বাসরোধ করেও হত্যা করতেন। অনেক ভুক্তভোগী প্রথমে সুস্থ হয়ে উঠলেও, পরে আবার বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হতো। প্রতিটি হত্যার পর আকবারি সম্পদের দাবি তুলতেন। মামলার নথি অনুযায়ী, প্রথম হত্যাকাণ্ড ঘটে ২০০১ সালে।
গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আকবারি হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করলেও আদালতে প্রথমে অস্বীকার করেন। পরে সাক্ষ্য-প্রমাণের চাপে দায় স্বীকার করেন, যদিও বিস্তারিত বিবরণ এড়িয়ে যান। মামলায় নিহতদের স্বজনসহ অন্তত ৪৫ জন বাদী হয়েছেন, এর মধ্যে চারটি পরিবার প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানিয়েছে।
আকবারির আইনজীবী তার মানসিক অবস্থা পরীক্ষা করার আবেদন করলেও, ভুক্তভোগীর এক আত্মীয় বলেন, “যিনি এত পরিকল্পিতভাবে একের পর এক হত্যাকাণ্ড চালাতে পারেন, তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন হতে পারেন না।”
সূত্র: আল-আরাবিয়া, গালফ নিউজ
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ