প্রকাশ: শুক্রবার, ৮ আগস্ট, ২০২৫, ৬:৫৩ পিএম

বগুড়ার ধুনট উপজেলার পার লক্ষীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাতায়াতের রাস্তার বেহাল দশায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি সংস্কার না হওয়ায় বর্ষায় কাদা-পানিতে কর্দমাক্ত হয়ে পড়ছে। ফলে পায়ে হেঁটে বিদ্যালয়ে যাওয়া হয়ে উঠছে শিক্ষার্থীদের জন্য দুঃসাধ্য।
স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষকরা জানান, ভাঙা ও কাঁচা রাস্তায় প্রতিদিন হেঁটে বিদ্যালয়ে আসতে গিয়ে শিশুরা প্রায়ই পিছলে পড়ে আহত হয়। এতে অনেকেই ভয়ে স্কুলে যাওয়া কমিয়ে দিয়েছে, যার ফলে পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক বলেন, “আমরা শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে চেষ্টা করি, কিন্তু এই রাস্তা আমাদের জন্য বড় বাধা। বর্ষা এলেই দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।”
স্থানীয় বাসিন্দা হাফেজ আব্দুল হালিম বলেন, “বর্তমানে ধানের বাজারে দাম ১৫০০ টাকা মণ হলেও আমাদের গ্রামে ১৩০০ টাকায় বিক্রি করতে হয়। তাও আবার সাইধে দিতে হয় বেপারীদের। মানসিক ও আর্থিকভাবে আমরা ভীষণ কষ্টে আছি। যদি রাস্তা পাকা হত, গ্রামের মানুষের এই কষ্ট অনেকটাই কমে যেত।”
অন্য এক বাসিন্দা সুজন সরকার জানান, “এই রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে অসুস্থ রোগীদের শহরে নেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। সময়মতো চিকিৎসা না পেয়ে প্রাণ হারানোর ঘটনাও ঘটেছে। তাই রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার এখন সময়ের দাবি।”
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও জানায়, প্রধান সড়কের এই অবস্থা কারণে তারা প্রায়ই কাদায় পিছলে পড়ে আহত হয়। হাত-পায়ে ব্যথা পাওয়ার কারণে অনেকেই নিয়মিত স্কুলে যেতে পারে না। তাদের দাবি, রাস্তাটি দ্রুত পাকা করে দেওয়া হলে তারা নির্বিঘ্নে বিদ্যালয়ে যেতে পারবে।
স্থানীয়রা মনে করেন, সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নিলে এই সমস্যা দ্রুত সমাধান সম্ভব। তাই তারা উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে রাস্তা সংস্কারের জোর দাবি জানিয়েছেন, যেন কোমলমতি শিক্ষার্থীরা নিরাপদে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে পারে।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ