
ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)
ড্যাবের ৬ বছর পর হতে যাওয়া এই নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচিত প্রার্থীরা আসন্ন সরকারের ক্ষমতার স্বাদ পাবেন। তাই প্রার্থীরা ভোটযুদ্ধে জয়ী হতে প্রাণপণ চেষ্টা করছেন। ভোটার তালিকা কয়েক দফা পোস্টমর্টেমের পর এবার ড্যাবের ভোটার ৩ হাজার ১৩৯ জন। শেষ মুহূর্তে এসে নির্বাচন ঘিরে প্রার্থীদের অতীত আমলনামা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করছেন ভোটাররা।
আগামীকাল শনিবার (৯ আগস্ট) বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) নির্বাচন। ইতোমধ্যে দুই প্যানেল ভোটের মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। দ্বারে দ্বারে ঘুরে চাইছেন ভোট। তফসিল অনুযায়ী, আগামী ৯ আগস্ট দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত রাজধানীর
কাকরাইলে উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
জানা গেছে, এবারের ভোটে যথারীতি ড্যাবের পুরোনো দুটো গ্রুপের নেতৃত্বে দুটো প্যানেল দেওয়া হয়েছে। সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং সাবেক আহ্বায়ক ফরহাদ হালিম ডোনারের অনুসারীদের পৃথক দুটি প্যানেল এবার ভোট করছে।
এরমধ্যে ২০০৫ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ড্যাবের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন অধ্যাপক এ কে এম আজিজুল হক। তিনি এবারও সভাপতি প্রার্থী। তার নেতৃত্বে একটি প্যানেল। তার সঙ্গে প্যানেলে অধ্যাপক ডা. আব্দুস শাকুর খান মহাসচিব, ডা. সাইফ উদ্দিন নিসার আহমেদ তুষান সিনিয়র সহ-সভাপতি, ডা. তৌহিদ উল ইসলাম জন কোষাধ্যক্ষ এবং ডা. আবু মো. আহসান ফিরোজ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদে লড়ছেন।
অপরদিকে, ২০১৯ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সংগঠনের প্রথম নির্বাচিত সভাপতি হারুনুর রশীদ আরেক প্যানেলে সভাপতি প্রার্থী। তার সঙ্গে প্যানেলে আছেন মহাসচিব পদপ্রার্থী ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল, কোষাধ্যক্ষ পদ প্রার্থী ডা. মো. মেহেদী হাসান, সিনিয়র সহ-সভাপতি পদপ্রার্থী ডা. আবুল কেনান ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদপ্রার্থী ডা. মো. খালেকুজ্জামান দিপু।
এই প্যানেলের বাইরেও ড্যাবের আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্য সচিব ডা. ওবায়দুল কবিরও সভাপতি প্রার্থী।
সভাপতি প্রার্থী হারুনুর রশীদের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন। জিয়াউর রহমানের জাগো দল থেকে ছাত্রদল করেন তিনি। এছাড়াও ছিলেন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশননের (বিএমএ) ট্রেজারার। ড্যাবের যুগ্ম সম্পাদক ও ড্যাবের ইতিহাসে প্রথম নির্বাচিত কমিটির সভাপতি তিনি।
জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘‘ভালো সাড়া পাচ্ছি। আমরা ৫ বছর মাঠে-ময়দানে ছিলাম। যারা ভোটার তারা তো আমাদের চিনে। আমি আশা করি, অনেক ভোটের ব্যবধানে আমরা জিতবো।”
আরেক সভাপতি প্রার্থী অধ্যাপক এ কে এম আজিজুল হকের গ্রামের বাড়ি নরসিংদী। বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মান্নান ভূঁইয়ার অনুসারী এই চিকিৎসক ১/১১ এর সময়ে সক্রিয় ছিলেন বলে অভিযোগ চিকিৎসকদের। তাদের দাবি, বিএনপির ক্ষমতা ছাড়ার তিন বছর পর পর্যন্ত সে খালেদা জিয়া মেডিকেল কলেজের (বর্তমানে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ) অধ্যক্ষ ছিলেন।
বর্তমানে শিশু হাসপাতালের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি আজিজুল হক। সম্প্রতি, শিশু হাসপাতালে ৬৫ জনকে অনিয়ম করে নিয়োগ দিয়ে মন্ত্রণালয়ের আদেশে বাতিল করতে বাধ্য হন। এসব নানা অনিয়মে সমালোচিত হন বর্ষীয়ান এই নেতা। জয়ে ব্যাপারে তিনিও আশাবাদী। মাঠে অবস্থা ভালো। খারাপ হবে না।
১/১১ এর সময়ে সক্রিয় ছিলেন কি না? এমন প্রশ্নে আজিজুল হক বলেন, “না। ১/১১ এরপরে ড্যাবেই তো সক্রিয় ছিলাম। ড্যাবের ইফতার পার্টি করেছি, মিটিং করেছি। ১/১১ নিয়ে কে বলে? এখন কি এগুলো নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করে লাভ আছে? এরপর আরেকটা সরকার আসছে। ১/১১ তে যদি সক্রিয় থাকতাম, তাহলে তো অনেক আগেই ড্যাব থেকে বের হয়ে যেতাম। ২০০৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ১৪ বছর আমি ড্যাবের সভাপতি ছিলাম। এখন ড্যাবের যে অবস্থা, একজন শক্তিশালী লোক ড্যাবের নেতৃত্বে আসা প্রয়োজন।”
এদিকে গত ২৫ জুলাই ড্যাবের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিজন কান্তি সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। তফসিল অনুযায়ী, ২৫ জুলায় খসড়া এবং ২৭ জুলাই চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়। এ ছাড়া ২৬ জুলাই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও দাখিলের কার্যক্রম শুরু হয়ে ২৮ জুলাই রাত ১০টায় শেষ হয়। বৈধপ্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয় ২৯ জুলাই। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল ৩০ জুলাই। পরদিন চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন।
২০২৪ সালের ২৫ মে ড্যাবের কমিটির মেয়াদ শেষ হয়। গত ২৪ মার্চ পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে ড্যাবের কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত করার কথা জানায় বিএনপি। পাশাপাশি সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সম্মেলন ও কাউন্সিল অনুষ্ঠানের জন্য ১২ সদস্যের সম্মেলন প্রস্তুতি ও কাউন্সিল পরিচালনা কমিটিও গঠন করা হয়। কমিটিকে ৪৫ দিনের মধ্যে ড্যাবের সম্মেলন আয়োজনের কথা বলা হলেও নানাবিধ কারণে সেটি সম্ভব হয়নি।
১৯৮৯ সালে অধ্যাপক ডা. জাকির হোসেনকে আহ্বায়ক এবং অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনারকে সদস্য সচিব করে ড্যাবের প্রথম কমিটি গঠন করা হয়। এরপর প্রথম ১০ বছরের মধ্যে চারটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। সর্বশেষ ডা. হারুন-ডা. সালামের নেতৃত্বে প্রথম নির্বাচিত কমিটি দিয়ে চলছিল ড্যাব। ২০১৯ সালে তাদের ৫ সদস্যের প্যানেল জয়ী হলে ২৭১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি করে।