প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৭ আগস্ট, ২০২৫, ৫:১৮ পিএম আপডেট: ০৭.০৮.২০২৫ ৮:০৫ PM

মারধরের হুমকি দেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক জাহিদুল ইসলাম হৃদয়
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা প্রদান এবং মারধরের হুমকি দেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক জাহিদুল ইসলাম হৃদয়।
আজ বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, “ঘটনার সময় উপাচার্য, ট্রেজারার, রেজিস্ট্রারসহ শীর্ষ প্রশাসনের উপস্থিতি সত্ত্বেও ছাত্রদল নেতা সাংবাদিকদের প্রতি উগ্র ও হুমকিমূলক আচরণ করেন। এরপরও প্রশাসন, কেন্দ্রীয় ছাত্রদল কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল কেউ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।”
ভুক্তভোগী সময়ের আলোর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আশরাফুল আলম জানান, ছবি ও ভিডিও ধারণের সময় হৃদয় অসৌজন্যমূলক ভাষায় সাংবাদিকদের সরতে বলেন। পরিচয় দেওয়ার পর তিনি তাকে ‘বেয়াদব’ বলে সম্বোধন করে থাপড়ানোর হুমকি দেন। এনটিভির প্রতিনিধি রোহান চিশতী জানান, ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে গেলে তাকেও মারতে উদ্যত হন হৃদয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকরা জানান, এ ঘটনায় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা এবং রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে এ ধরনের অনিয়ম চলতে থাকলে ক্যাম্পাসে পেশাদার সাংবাদিকতা টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে। তারা দ্রুত সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম হৃদয় ‘বিশেষ বিবেচনায়’ ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে স্নাতকোত্তরে ভর্তি হন বলে জানিয়েছেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. মো. বখতিয়ার উদ্দিন। শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন তুলেছেন, বারবার ফেল করে ছাত্রত্ব হারানো একজন শিক্ষার্থী কীভাবে পুনরায় ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেলেন?
বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাহাদৎ হোসেনের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি নবাব মো. শওকত জাহান কিবরিয়া, সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জান্নাতি বেগম, প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক আমিরুল ইসলাম বাপন, দপ্তর প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক রোহান চিশতীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকবৃন্দ।
মানববন্ধন শেষে সাংবাদিকরা উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ঘটনার প্রতিবাদ জানান এবং লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। উপাচার্য আশ্বাস দিলেও ‘বিশেষ বিবেচনায়’ ছাত্রত্ব প্রদানের বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানাননি।