
ইংলিশ চ্যানেলের হিমশীতল জলরাশি পেরিয়ে এক ইতিহাস গড়লেন পাবনার মাহফিজুর রহমান সাগর। পৌঁছে গেলেন অনন্য এক কৃতিত্বের শিখরে। তার সাথে ছিলেন কিশোরগঞ্জের নাজমুল হক হিমেল।
মঙ্গলবার, (২৯ জুলাই) লন্ডনে টানা ১২ ঘণ্টা ১০ মিনিট সাঁতরে এই দুই সাঁতারু সফলভাবে অতিক্রম করেন ইংলিশ চ্যানেল।
দ্বীপচরের লাউদাড়া গ্রামের মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান টিংকুর ছেলে সাগর। ভাই বোনের মধ্যে সাগর সবার ছোট। বাবা ছিলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, লড়েছেন দেশের জন্য অস্ত্র হাতে। ছোট বেলা থেকে সাগরকে সাঁতার শিখতে অনুপ্রাণিত করতেন তিনি। তার স্নেহময় কণ্ঠে ভেসে আসত, "সাঁতার শেখো, শক্ত হও।"
বাবার অনুপ্রেরণায় সাঁতার শুরু করে সাগর। যিনি পাড়ি দিয়েছেন ইংলিশ চ্যানেল। বাংলাদেশের ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছেন সাহসিকতার নতুন অধ্যায়ে।
স্থানীয় লোকজন, প্রতিবেশী, জেলা প্রশাসক, কোচ সবাই যেন গর্বে ভরে উঠেছেন সাগরের এই বিজয়ে।
পাবনার রফিকুল ইসলাম সুইমিং পুল ছিল সাগরের প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক সাঁতারের মঞ্চ। সেখান থেকে বিকেএসপিতে ভর্তি, জাতীয় পর্যায়ে পাঁচবার সেরা সাঁতারু, অসংখ্য পদক। প্রতিটি ধাপে সাগরের ভেতর গড়ে উঠেছে এক নির্মোহ, দৃঢ়চেতা যোদ্ধা।
২৯ জুলাই, লন্ডনে সকালে ১৫ থেকে ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় একটানা ১২ ঘণ্টা দশ মিনিট সাঁতার কেটেছেন সাগর।তাপমাত্রায় শরীর শীতল,পেশি বেঁকে যায় কিন্তু সাগরের ভেতরে গড়িয়ে চলেছে অন্যরকম স্রোত সেটা আত্মবিশ্বাসের বাবার লালিত স্বপ্ন- পূরণের কথা্।
ইংলিশ চ্যানেলের হিমশীতল জলরাশি ভেদ করে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা যেদিন বাতাসে ওড়েছিল ঠিক সেদিনই বুঝি জন্ম হয় এক সত্যিকারের বিজয়ের গল্প। তিনি পাড়ি দিয়েছেন স্বপ্ন, সংগ্রাম আর সাফল্যের পথও।
সাগরের মা নিলুফা বেগম স্বদেশ প্রতিদিনকে বলেন, যদি তার বাবা বেঁচে থাকতেন তাহলে অনেক খুশিতে ছেলের জয়ের সার্থকতা ফুটে উঠত। ছেলের এতবড় সাফল্যে গর্বে আমার বুক ভরে যাচ্ছে। আপনারা সবাই ছেলেটির জন্য দোয়া করবেন।
পাবনা জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ মফিজুল ইসলাম স্বদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আমরা খুবই গর্ববোধ করছি ছেলেটি ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়ায়। সে আগামীতে আরও বড় হোক এই শুভ কামনা থাকল।
মাহফিজুর রহমান সাগরের এই সাফল্য যেন আরেকবার মনে করিয়ে দেয় বাংলাদেশের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকেও বিশ্বজয় সম্ভব। শুধু প্রয়োজন সঠিক দিকনির্দেশনা, প্রতিভা লালন, আর একফোঁটা সাহস।
এর আগে, ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়েছেন বাংলাদেশের তিনজন সাঁতারু। ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রমকারী প্রথম এশীয় সাঁতারু ব্রজেন দাস। ১৯৫৮ থেকে ১৯৬১ সালের মধ্যে মোট ছয়বার চ্যানেলটি অতিক্রম করেন তিনি।
স্বদেশ প্রতিদিন/কেআইকে