
ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে রাশিয়ার ওপর আরোপিত পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক মার্কিন সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) ড্যানিয়েল ডেভিস। তার মতে, এত হাজারো নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও রাশিয়া অর্থনৈতিকভাবে টিকে আছে এবং এখন অনেকটাই আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠেছে।
বৃহস্পতিবার নিজের ইউটিউব অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে ডেভিস বলেন, “গত কয়েক বছরে রাশিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্ররা ১৬ হাজারের বেশি নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এর কোনো কার্যকর প্রভাব পড়েনি। রাশিয়া এসব চাপ মোকাবিলা করেই অভিযোজন করে নিয়েছে এবং এগিয়ে চলেছে।”
তিনি আরও বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনো মনে করছেন, চাপ দিয়ে রাশিয়াকে আলোচনার টেবিলে আনা সম্ভব। কিন্তু আগেও যে সময়সীমাগুলো নির্ধারণ করা হয়েছিল, সেগুলোর কোনো ফল হয়নি। এই বাস্তবতা এখন কৌশলগতভাবে বদলানো কঠিন।”
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যদি ১০ দিনের মধ্যে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে চুক্তিতে না আসে, তাহলে তার প্রশাসন নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে। যদিও তিনি স্বীকার করেছেন, এই পদক্ষেপও ব্যর্থ হতে পারে।
ডেভিসের মতে, নতুন সময়সীমাও যদি ব্যর্থ হয়, তাহলে ট্রাম্প রাজনৈতিকভাবে দুর্বল ও অকার্যকর হিসেবে চিহ্নিত হতে পারেন।
ক্রেমলিনের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, রাশিয়া পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা ও চাপ মোকাবিলায় অভ্যস্ত হয়ে গেছে। তাদের মতে, এই নিষেধাজ্ঞাগুলো আন্তর্জাতিক আইন পরিপন্থী এবং এসব চাপ উল্টো নিষেধাজ্ঞা আরোপকারী দেশগুলোর ওপরই নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও একই বার্তা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, রাশিয়ার ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর এখন পর্যন্ত ২৮ হাজারের বেশি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে, যা বিশ্বের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
পুতিন জোর দিয়ে বলেন, “এই নিষেধাজ্ঞাগুলো রাশিয়ার অর্থনীতি ধ্বংস করতে পারেনি। বরং আমরা টিকে আছি এবং বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হইনি।”
সাবেক মার্কিন সেনা কর্মকর্তা ড্যানিয়েল ডেভিস, যিনি ইরাক ও আফগানিস্তানে দায়িত্ব পালন করেছেন, মনে করেন—রাশিয়াকে চাপে রেখে থামানো যাবে না; বরং এর সমাধান খুঁজতে হবে বাস্তবতাকে সামনে রেখেই।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ