প্রকাশ: সোমবার, ৪ আগস্ট, ২০২৫, ২:৫১ পিএম

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) মেধাবী শিক্ষার্থী সাজিদ আবদুল্লাহকে শ্বাসরোধে হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে ইবি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)-এর শিক্ষার্থীরা। সোমবার (৪ আগস্ট) পৃথক কর্মসূচিতে তারা হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
সকাল ১১টায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা থেকে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। একই সময়ে ‘রাবিস্থ মিল্লাত পরিবার’ ব্যানারে রাবি ক্যাম্পাসের প্যারিস রোডে এবং ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মিল্লাতিয়ান অ্যাসোসিয়েশন’-এর আহ্বানে ঢাবির রাজু ভাস্কর্যে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
ইবি শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘কখন এবং কার কাছে উচ্চতর তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে, তা আজকের মধ্যেই স্পষ্ট করতে হবে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে খুনিদের সনাক্ত করে বিচার করতে না পারলে চেয়ার ছেড়ে দিন।’
রাবি শিক্ষার্থী সালাউদ্দিন বলেন, ‘সাজিদ আবদুল্লাহ তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি কোরআনে হাফেজ, সাংস্কৃতিক কর্মী এবং ‘জুলাই বিপ্লব’-এর প্রথম সারির যোদ্ধা ছিলেন। অথচ তাকে শ্বাসরোধ করে নির্মমভাবে হত্যা করে পুকুরে ফেলে রাখা হয়েছে। ১০ দিন পার হলেও ইবি প্রশাসন কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি- এটি প্রশাসনের চরম ব্যর্থতা। আমরা দ্রুত বিচার চাই। প্রয়োজনে ইবিতে গিয়ে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলব।’
ঢাবি শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘যেখানে হলের পাশে পর্যাপ্ত আলো ও সিসি ক্যামেরা থাকার কথা, সেখানে এমন ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড ঘটে গেল অথচ সিসি ক্যামেরা ছিল না- এটি অত্যন্ত রহস্যজনক। উচ্চতর তদন্তের মাধ্যমে এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।’
এ বিষয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, ‘খুনিদের অবশ্যই বিচার হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। আজ অভিভাবক মামলা করবেন এবং সন্ধ্যা ৭টায় জরুরি সিন্ডিকেট মিটিং ডেকেছি। শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’ তিনি শিক্ষার্থীদের ক্লাস, পরীক্ষা ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণেরও আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, গত রবিবার (৩ আগস্ট) প্রকাশিত ফরেনসিক প্রতিবেদনে বলা হয়, সাজিদকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের ভিত্তিতে ধারণা করা হয়, মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে তার ৩০ ঘণ্টা আগে। একইদিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়, যেখানে উচ্চতর তদন্তের সুপারিশ করা হয়। রিপোর্ট প্রকাশের পর রাত ৮টার দিকে ইবি শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে হত্যার প্রতিবাদ জানান।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম