
সড়ক অর্ধসমাপ্ত, ‘গায়েব’ ঠিকাদার
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার শ্রীরায়েরচর-ছেংগারচর সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে অগ্রগতি প্রায় বন্ধ। প্রায় ২৬ কোটি টাকার এ প্রকল্পে নির্ধারিত সময় পার হলেও এক চতুর্থাংশ কাজ এখনও অসমাপ্ত। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে নির্মাণকাজ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘হাসান টেকনো বিল্টাস লিমিটেড’ কাজ ফেলে লোকজনসহ গা-ঢাকা দিয়েছে। ফলে জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক এখন ধুলাবালি, গর্ত আর কর্দমাক্ত পথের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের অসংখ্য স্থানে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির সময় কাদা, আর শুকনো দিনে ধুলোর ঝড়, উভয় অবস্থায় চলাচল দুঃসহ। এতে স্কুলশিক্ষার্থী, রোগী, দিনমজুর ও চালকরা চরম দুর্ভোগে পড়ছেন।
শুধু মতলববাসীর যোগাযোগই নয়, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, ফেনী ও চট্টগ্রামের সঙ্গে সংযোগের দিক থেকেও এ সড়ক গুরুত্বপূর্ণ। প্রকল্প শুরুর সময় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সঙ্গে এ রুটের সংযোগ স্থাপনের আশাও করা হয়েছিল, কিন্তু নির্মাণকাজ আটকে থাকায় সেই স্বপ্ন এখন অধরাই থেকে গেছে।
অটোরিকশা চালক ইসমাইল হোসেন বলেন, “শুকনো দিনে ধুলায় চোখে কিছু দেখা যায় না, আবার বৃষ্টিতে কাদায় গাড়ি আটকে যায়। দুর্ঘটনাও ঘটে।”
রোগী দিপালী আক্তার বলেন, “হাসপাতালে যেতে গিয়ে রাস্তায় এমন ঝাঁকুনি খাই যে বাচ্চা ভয়ে কাঁদতে থাকে। গর্ভবতী নারীদের জন্য এই রাস্তায় চলা খুবই বিপজ্জনক।”
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, “এটাই একমাত্র রাস্তা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসার জন্য। এই অবস্থায় রোগীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।”
সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) তথ্যমতে, শ্রীরায়েরচর থেকে ছেংগারচর পর্যন্ত সড়কের দৈর্ঘ্য ১০.৫ কিলোমিটার। এর মধ্যে মাত্র ৫.২ কিলোমিটারে কার্পেটিং শেষ হয়েছে। বাকি ৪.৮ কিলোমিটারে গত এক বছরে কোনো অগ্রগতি হয়নি। নির্মাণ সামগ্রী পড়ে থাকলেও কোনো শ্রমিক বা প্রকৌশলীর দেখা মিলছে না দীর্ঘদিন ধরে।
চাঁদপুর সওজ-এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “ঠিকাদার ও তার প্রতিনিধিদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আড়াই মাস আগে চুক্তি বাতিলের প্রস্তাব পাঠিয়েছি। ইতোমধ্যে যেটুকু কাজ হয়েছে, তাও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত।”
উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন বলেন, “উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ চুক্তি বাতিল করলে নতুন টেন্ডার করে কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, “এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, যা উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সঙ্গে সংযুক্ত। বিষয়টি নিয়ে আমি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। জনস্বার্থে দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করা প্রয়োজন।”