প্রকাশ: শুক্রবার, ১ আগস্ট, ২০২৫, ৫:৪৬ পিএম

জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনকে লাল কার্ড দেখালো নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা।
আজ শুক্রবার (১ আগস্ট) জুমার নামাজের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘চির উন্নত মমশির’ ভাস্কর্যের সামনে আয়োজিত এক সমাবেশে প্রতীকী ‘লাল কার্ড’ প্রদর্শনের মাধ্যমে তারা কমিশন বাতিলের দাবি জানান।
সমাবেশে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের বক্তব্যে উঠে আসে, জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের উপস্থিতি বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় স্বার্থের জন্য হুমকিস্বরূপ। তারা প্রশ্ন তোলেন, বাংলাদেশ কোনো যুদ্ধবিধ্বস্ত রাষ্ট্র নয়, যে এখানে মানবাধিকার কমিশনের তদারকি প্রয়োজন।
হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থী আসিফ রায়হান বলেন, “বাংলাদেশে জাতিসংঘের নামে কোনো ভুয়া মানবাধিকার কমিশন প্রতিষ্ঠা করা অনুচিত। অথচ ইউনূস সরকার এই কমিশনের অনুমোদন দিয়ে যে তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা দেশের জনগণের স্পষ্ট ইচ্ছার পরিপন্থী। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই এবং অবিলম্বে এই কমিশন বাতিলের দাবি করছি।”
তিনি আরও বলেন, “জুলাইয়ের ঐতিহাসিক গণআন্দোলনের মাধ্যমে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারই আজ দেশের প্রকৃত জনআস্থা প্রাপ্ত সরকার। অথচ ড. ইউনূস মিথ্যা 'জঙ্গি মামলা' দিয়ে দেশের সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত ও ব্যস্ত রেখে চুপিসারে এই কমিশনের অনুমোদন দিয়ে দিয়েছে। আমরা এই মানবাধিকার কমিশনকে লাল প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রত্যাখ্যান করছি।
মার্কেটিং বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাজমুল সাহা শিবলু বলেন, “এটি কোনো মানবাধিকার সংস্থা নয়, বরং এটি একটি কুকুরের সংগঠন যেখানে কুকুর মরলে সমবেদনা জানানো হয় এবং মানুষ মারা গেলে কোনো সমবেদনা প্রকাশ করা হয় না।"
সমাবেশে শিক্ষার্থীরা “দালালি না মুক্তি, মুক্তি-মুক্তি”, “দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা-ঢাকা”, “ওয়াশিংটন না ঢাকা, ঢাকা-ঢাকা”—এমন স্লোগানে ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণ প্রকম্পিত করেন। পরে প্রতীকী লাল কার্ড প্রদর্শনের মাধ্যমে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএএম