প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই, ২০২৫, ৮:৩৯ পিএম

বাকপ্রতিবন্ধী সুমি
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) অবস্থিত সিআরপি ময়মনসিংহ সেন্টারের স্পিচ থেরাপির মাধ্যমে বাকশক্তি ফিরে পেয়েছেন এক বাকপ্রতিবন্ধী নারী।
মাত্র ১২টি সেশনের চিকিৎসায় কথা বলার সক্ষমতা ফিরে পেয়েছেন ৩৫ বছর বয়সী সুমি, যিনি গ্লোবাল অ্যাফেসিয়া, ওরো-ফ্যারিঞ্জয়াল ডিসফ্যাজিয়া ও ডিসলেক্সিয়ায় আক্রান্ত ছিলেন।
জানা যায়, এক রাতে সন্ত্রাসীদের হামলায় মাথায় আঘাত পান সুমি। এতে তিনি বাকশক্তি, গিলতে পারার ক্ষমতা ও ভাষা প্রকাশের দক্ষতা হারিয়ে ফেলেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, তিনি আর কখনোই কথা বলতে পারবেন না।
পরে তাকে ভর্তি করা হয় বাকৃবির সিআরপি ময়মনসিংহ সেন্টারে। সেখানে স্পিচ অ্যান্ড ল্যাংগুয়েজ থেরাপিস্ট সাবরিনা হোসেন তৃষার তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা শুরু হয়। ধাপে ধাপে চলতে থাকা থেরাপিতে মাত্র তিন মাসেই দৃশ্যমান উন্নতি হয় সুমির।
থেরাপিস্ট সাবরিনা হোসেন তৃষা বলেন, “আমি এই পেশা বেছে নিয়েছি কারণ এটি নতুন ও সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। আমরা যে সমস্যাগুলোর চিকিৎসা করি, কথা বলা, গিলতে পারা, কণ্ঠস্বর, তা মানুষের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।”
তিনি আরো বলেন, “বাংলাদেশে এখনও স্পিচ অ্যান্ড ল্যাংগুয়েজ থেরাপি সম্পর্কে সচেতনতা কম। অথচ সময়মতো থেরাপি শুরু করলে অনেকেই সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন।”
বর্তমানে সুমি আবার কথা বলতে পারছেন। প্রথমে ছোট শব্দ, পরে বাক্য—এইভাবে ধীরে ধীরে তিনি নিজেকে প্রকাশ করতে শুরু করেন।
এই ঘটনা দেশের অন্যান্য গ্লোবাল অ্যাফেসিয়া ও ডিসফ্যাজিয়া রোগীদের জন্য হতে পারে এক আশার বার্তা।