
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) নারী শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ায় একটি পৃথক, নিরাপদ ও পর্দাবেষ্টিত কর্ণার স্থাপনের দাবি জানালে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্যাফেটেরিয়ায় স্থাপন করা হয় একটি ‘পর্দা কর্ণার’।
তবে, সেই পর্দা কর্ণারের অব্যবস্থাপনা ও অস্থায়ী কাঠামো নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নারী শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি—‘পর্দা কর্ণার’ নামের আড়ালে প্রশাসন মূলত একটি প্রহসনের আশ্রয় নিয়েছে। একজন শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম নিরাপদ আশ্রয়, তারা দিয়েছে বাঁশের বেড়া।’
সরেজমিনে দেখা যায়, ক্যাফেটেরিয়ার এক পাশে আনুমানিক সাড়ে ৫ থেকে ৬ ফুট উচ্চতার বাঁশের তৈরি একটি অস্থায়ী পর্দা কর্ণার স্থাপন করা হয়েছে। তবে বাঁশের ফাঁকফোকর দিয়ে ভেতরের দৃশ্য সহজেই দেখা যাচ্ছে। কর্ণারটির কাঠামো ও ব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
অনেক শিক্ষার্থী এই উদ্যোগকে লোকদেখানো ও দায়সারা সমাধান হিসেবে দেখছেন। তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে পর্দাশীল মেয়েদের জন্য আলাদা খাবার জায়গা তৈরির দাবি জানানো হলেও, প্রশাসন সেটিকে গুরুত্ব না দিয়ে কেবল দায়মুক্তির জন্য একটি অস্থায়ী বেড়া বসিয়ে দিয়েছে।
এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘এই অস্থায়ী কর্ণারে কোনো সুবিধা নেই। এর ফাঁক দিয়ে যে কেউ দেখতে পারে। নেই ফ্যান, নেই পর্যাপ্ত জায়গা। এতে আমাদের পর্দা লঙ্ঘিত হচ্ছে।’
আইসিটি বিভাগের ২০২০–২১ সেশনের শিক্ষার্থী খাদিজা আরেফীন মিম বলেন, ‘নারী শিক্ষার্থীদের স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে আমরা একটি পর্দাসম্মত 'আল আসলামিয়া পর্দা কর্ণার' স্থাপনের অনুরোধ জানিয়েছিলাম। কিন্তু যে কাঠামো দেওয়া হয়েছে তা মূলত হালকা বেতের পার্টিশন, যার ফাঁক দিয়ে ভেতরের সবকিছু দেখা যায়। এটি আমাদের চাহিদা পূরণ তো করেনি, বরং নারী শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অস্বস্তিকর ও অনিরাপদ পরিবেশ তৈরি করেছে। আমাদের স্মারকলিপির দাবি অনুযায়ী এটি সম্পূর্ণ পরিপন্থী।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই অস্থায়ী ছাউনিটি বাহ্যিকভাবে হয়তো দাবি পূরণের ভান তৈরি করছে, কিন্তু এটি কোনো কার্যকর সমাধান নয়। এটি নারী শিক্ষার্থীদের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ। আমরা বিনয়ের সঙ্গে আহ্বান জানাচ্ছি- একটি স্থায়ী, বাস্তবসম্মত ও কার্যকর ‘পর্দা কর্ণার’ স্থাপন করা হোক।’
সাধারণ শিক্ষার্থীরাও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রশাসনের কাছে আমরা চেয়েছিলাম একটি নিরাপদ, স্থায়ী পর্দা কর্ণার। কিন্তু বাস্তবে পেয়েছি একটি বাঁশের বেড়া। বেড়ার ফাঁকে অসংখ্য ছিদ্র; দূর থেকেও ভেতরে কে আছেন তা বোঝা যায়। বেসিনে যাওয়ার পথে ভেতরের কাউকে দেখে ফেলা খুবই স্বাভাবিক। এর উচ্চতা মাত্র সাড়ে পাঁচ ফুট, যেকোনো মানুষ ভেতরে তাকিয়ে দেখতে পারে। এতে নিরাপত্তা নেই, গোপনীয়তা নেই। যে কেউ এই বেড়া এক মিনিটেই সরিয়ে ফেলতে পারবে। এটি প্রহসন ছাড়া আর কিছুই না। সাত মাস ধরে এই প্রহসন চলছে। একটি শিক্ষার্থী-বান্ধব বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে আমরা এমন আচরণ আশা করি না।’
এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিসের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আশরাফ আলী বলেন, ‘আমার হাতে যতটুকু ছিল, আমি করার চেষ্টা করেছি। এটি আগের ভিসি স্যারের রুমের সামনে ব্যবহৃত হতো, তাই আমরা এটিকে ব্যবহার করেছি। আমার অফিসের দায়িত্ব জায়গা নির্ধারণ করা। কোনো কাজ প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া বাস্তবায়ন করতে পারি না। এই কর্ণারটিও ভিসি স্যার ও শিক্ষার্থীকল্যাণ পরিচালকের অনুমতি সাপেক্ষে স্থাপন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের কোনো দাবি থাকলে তারা প্রশাসনকে জানাতে পারে।’
শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. ফজলুল করিম জানান, আমরা পর্দা কর্ণারের ফাঁকা জায়গাগুলো কালো কাপড় দিয়ে ঢেকে দেব। পর্দা কর্ণারের নাম বা উদ্যোগ নিয়ে আমাদের কোনো সমস্যা নেই।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম