প্রকাশ: রবিবার, ২৭ জুলাই, ২০২৫, ১০:২৮ পিএম

ফাইল ছবি
দীর্ঘ পাঁচ মাসের অচলাবস্থা কাটিয়ে অবশেষে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)-এ শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরছেন। আগামী মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) থেকে একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর আশ্বাস দিয়েছেন নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মাকসুদ হেলালী।
আজ রবিবার (২৭ জুলাই) দুপুরে উপাচার্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক শেষে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।
উপাচার্য বলেন, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে মঙ্গলবার থেকে ক্লাস শুরু হবে। এজন্য মঙ্গলবারের আগে শিক্ষার্থীদের হল ও আবাসনে এসে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এর আগে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি কুয়েট ক্যাম্পাসে রাজনীতি নিষিদ্ধ করার প্রেক্ষাপটে স্থানীয় ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। এতে দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামলে পুরো ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় সরকার তৎকালীন উপাচার্যকে অপসারণে বাধ্য হয়।
পরবর্তীতে চুয়েটের অধ্যাপক হযরত আলীকে অন্তর্বর্তীকালীন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলেও শিক্ষক সমিতির বিরোধিতার মুখে তিনি পদত্যাগ করেন। পরে শিক্ষকরা নিরাপত্তাহীনতার কারণ দেখিয়ে একাডেমিক কার্যক্রমে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়ে।
এই দীর্ঘ স্থবিরতার অবসান ঘটিয়ে গত ২৫ জুলাই শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. মো. মাকসুদ হেলালী। পরদিন তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং আজ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করে ক্লাস শুরুর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন।
কুয়েট শিক্ষার্থী স্বর্ণ রাজ বলেন, “দীর্ঘ পাঁচ মাস বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় আমরা পুরো একটি সেমিস্টার পিছিয়ে পড়েছি। দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় আমরা অনেকটাই পিছিয়ে গিয়েছি। এতদিন অনিশ্চয়তায় কাটাতে গিয়ে মানসিকভাবেও আমরা চরমভাবে ভেঙে পড়েছি।”
আরেক শিক্ষার্থী আরশাদ হোসেন বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় পাঁচ মাস বন্ধ থাকায় শুধু একাডেমিক ক্ষতিই নয়, মানসিক চাপেও পড়তে হয়েছে আমাদের। ল্যাবের কাজ, প্রজেক্ট আর রিসার্চ সবই থমকে ছিল। সেশনজট বাড়ার পাশাপাশি ক্যারিয়ারের পরিকল্পনাও এলোমেলো হয়ে গেছে। তবে এখন ক্লাস চালু হচ্ছে শুনে কিছুটা স্বস্তি লাগছে। অনেকদিন পর আবার ক্যাম্পাসে ফিরতে পারব—এই আনন্দটা ভাষায় বোঝানো যাবে না।”
এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সকল শিক্ষার্থীকে তাদের কুয়েটের ব্যক্তিগত ই-মেইলের মাধ্যমে ক্লাস শুরুর তথ্য জানিয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা।
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর