
খাদ্য সংকট চরমে পৌঁছানো গাজা উপত্যকায় দেড় বছর বয়সী মোহাম্মাদ নামে এক শিশুর ওজন মাত্র ৬ কেজি। অপুষ্টি ও জীবনসংকট নিয়ে মোহাম্মাদের মা হাদিয়া আল-মাতুক গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
শুক্রবার ধারণ করা ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, আল-শাতি উদ্বাস্তু শিবিরের একটি তাঁবুতে মায়ের কোলে অসুস্থ মোহাম্মাদ। তার দেহে স্পষ্ট দুর্বলতার ছাপ, পিঠ বেঁকে গেছে, হাড় বেরিয়ে এসেছে।
মোহাম্মাদের মা হাদিয়া বলেন, "এই দুর্দশা শুরুর আগে তার ওজন স্বাভাবিক ছিল। এখন খাবারের অভাবে তার ওজন মাত্র ছয় কেজিতে নেমে এসেছে। অপুষ্টির কারণে আমার ছেলের বিভিন্ন রোগ দেখা দিয়েছে।" চিকিৎসকদের মতে, ১৮ মাস বয়সী শিশুর ওজন গড়ে ৯ থেকে ১২.৫ কেজির মধ্যে হওয়া উচিত।
তিনি আরও বলেন, “আমি একজন শহীদের স্ত্রী, দুই সন্তানের মা, আর আমার পাশে কেউ নেই। ছেলেকে বাঁচাতে অনেক সংগ্রাম করছি, কিন্তু কোথাও থেকে সহায়তা পাচ্ছি না। বাজারে কিছু জিনিসপত্র থাকলেও দাম এত বেশি যে কেনা সম্ভব নয়।”
বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP) জানিয়েছে, গাজার এক-তৃতীয়াংশ মানুষ দিনের পর দিন না খেয়ে আছে, এবং ৯০,০০০-এর বেশি নারী ও শিশু মারাত্মক অপুষ্টিতে চিকিৎসার অপেক্ষায় রয়েছে।
WFP বলছে, “আমরা গাজা উপত্যকায় বিপুল পরিমাণ খাদ্য সহায়তা পাঠাতে প্রস্তুত। তবে এর একমাত্র সমাধান হচ্ছে যুদ্ধবিরতি।”
অন্যদিকে, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় শুক্রবার জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় অপুষ্টি ও অনাহারে নতুন করে আরও ৯ জন মারা গেছেন। এই কারণে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২২ জনে, যার মধ্যে ৮৩ জন শিশু।
ইসরায়েল ফামিন সৃষ্টির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, এই সংকট 'মানবসৃষ্ট', এবং এর জন্য হামাসকে দায়ী করেছে। ইসরায়েলি সরকারের মুখপাত্র ডেভিড মেনসার বলেন, “এই খাদ্য সংকট ইসরায়েল সৃষ্টি করেনি।”
প্রসঙ্গত, গত ৭ অক্টোবর হামাস দক্ষিণ ইসরায়েলে একটি নজিরবিহীন হামলা চালায়, যাতে ১,১৩৯ জন নিহত এবং ২০০’র বেশি লোক অপহরণ হয় বলে ইসরায়েল দাবি করে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় বিমান হামলা ও স্থল অভিযানে ৫৯,৬৭৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১,৪২,৯৬৫ জন আহত হয়েছে বলে প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত জানানো হয়েছে।
সূত্র: ভায়োরি
স্বদেশ প্রতিদিন/কেআইকে