
রাজধানীতে বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় জাতি যখন শোকাহত, ঠিক সেই প্রেক্ষাপটে স্থগিত করা হয়েছে মঙ্গলবারের (২২ জুলাই) এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা।
সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে শিক্ষা উপদেষ্টা প্রফেসর ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার এই পরীক্ষাগুলো স্থগিতের ঘোষণা দেন। এ তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। দুই উপদেষ্টার ফেসবুক আইডিতে একযোগে এ বিষয়ে পোস্ট দেওয়া হয়।
ফেসবুক পোস্টে বলা হয়, “শিক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের সাক্ষাৎ হয়েছে। আলোচনা শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, মঙ্গলবারের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত থাকবে।”
এর আগে দুর্ঘটনার পরও পরীক্ষা চালিয়ে নেওয়ার ঘোষণায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। সাধারণ শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সাংবাদিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারাও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের লেখেন, “এই দেশের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা কোথায়? শিক্ষা উপদেষ্টা নাকি মন্তব্য করেছেন, আজকের ঘটনার সাথে এইচএসসি পরীক্ষা পেছানোর সম্পর্ক কোথায়? কিভাবে পারেন?”
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি রিফাত রশিদ লেখেন, “এমন ট্রাজেডির পর কোনো শিক্ষার্থীর পক্ষে পরীক্ষা দেওয়া সম্ভব নয়। আগামীকালের পরীক্ষা স্থগিত করো ইন্টারিম!”
একজন শিক্ষার্থীর অভিভাবক সোহা আক্তার সাদিয়া মন্তব্য করেন, “এইচএসসি পরীক্ষার্থী রুবাইয়ের মা মাইলস্টোনে মারা গেছেন। উপদেষ্টা সাহেব, উনি কি মায়ের লাশ দাফন করতে যাবে, নাকি পরীক্ষা দিবে? একটু দয়া করে জানান।”
স্থগিত হওয়া পরীক্ষাগুলোর মধ্যে রয়েছে:
রসায়ন (তত্ত্বীয়) দ্বিতীয় পত্র
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি দ্বিতীয় পত্র
ইতিহাস দ্বিতীয় পত্র / গৃহ ব্যবস্থাপনা ও পারিবারিক জীবন দ্বিতীয় পত্র
উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন দ্বিতীয় পত্র
পরীক্ষাগুলোর নতুন তারিখ পরে জানানো হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম