প্রকাশ: সোমবার, ২১ জুলাই, ২০২৫, ৮:৪৭ পিএম

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলায় খাল ও কালভার্ট বন্ধ করে মাছ চাষের প্রকল্প চালু করায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
এর ফলে হেসাখাল খিলপাড়া, চক্রলোদী, নাওগোদা, দৌলতপুর ও শ্রীহাস্য—এই পাঁচটি গ্রামের প্রায় ২ হাজার একর কৃষিজমি গত ১০ বছর ধরে চাষাবাদের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
সোমবার (২১ জুলাই) সকালে ক্ষতিগ্রস্তরা গাগৈর খালের দায়েমছাতি বাজার সংলগ্ন এলাকায় বিক্ষোভ করেন এবং পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।
স্থানীয় কৃষকরা অভিযোগ করছেন, কৃষি জমিতে পুকুর খনন করে এলাকার ২টি খাল ও ১১টি কালভার্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
আরও অভিযোগ এসেছে হেসাখাল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি জালাল আহমেদ ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে।
নাঙ্গলকোট উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক অহিদুল ইসলাম মজুমদারসহ একাধিক ভুক্তভোগী কৃষক জানান, তারা গত ১০ বছরে আউশ, আমন ও বোরো মৌসুমে ধান উৎপাদন করতে পারেননি। জলাবদ্ধতার কারণে এলাকায় কৃষিকাজ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে তারা অনাহারে-অর্ধাহারে জীবন কাটাচ্ছেন। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদী জলাবদ্ধতায় পানি বাহিত রোগ ও পুষ্টিহীনতায় ভুগছেন অনেকে।
অভিযুক্ত জালাল আহমেদ ভূঁইয়া এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি আমার জমিতে মাছের প্রকল্প করেছি, তবে পানি চলাচলের জন্য ব্যবস্থাও রেখেছি। খালে আমি বাঁধ দিইনি, বরং দৌলতপুর এলাকার কালভার্ট বন্ধের জন্য পানি আমার প্রকল্পের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।”
এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল আমিন সরকার বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পরপরই আমি এসিল্যান্ডকে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি।”
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ