প্রকাশ: সোমবার, ২১ জুলাই, ২০২৫, ১২:২০ পিএম

পাঁচ মাসেরও বেশি সময় ধরে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)-এর একাডেমিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে আছে। চলমান অচলাবস্থা ও শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার ঘটনাগুলোর অনুসন্ধানে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও শিক্ষকদের মধ্যে চলমান অসন্তোষ, ১৮ ই ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও অস্বাভাবিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সোমবার ২১ জুলাই সিনিয়র সহকারী সচিব এ. এস. এম. কাসেম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এই তদন্ত কমিটির গঠন করা হয়।
উক্ত তদন্ত কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে আছেন সাবেক সচিব ও এনবিআর চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ। সদস্য হিসেবে রয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানি মন্ডল এবং বুয়েটের কম্পিউটার সাইন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মাসরুর আলী।
কমিটিকে কুয়েটের অস্থিরতার কারণ ও দায়ীদের চিহ্নিতকরণ, উপাচার্যের অনুপস্থিতিতে কোনো আর্থিক লেনদেন হয়েছে কি না তা যাচাই এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে করণীয় সুপারিশ প্রদান করবে। দুই মাসের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
কমিটি প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ থেকে দুই মাসের মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে প্রতিবেদন দাখিল করবে। কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা প্রদান করবেন বিশ্ববিদ্যালয় অনুবিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব এ. এস. এম. কাসেম।
বিশ্ববিদ্যালয়টি দীর্ঘ পাঁচ মাস বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমে ভয়াবহ সেশনজট তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি মানসিক চাপে ভুগছেন শিক্ষার্থীরা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও পড়েছে অনিশ্চয়তার মুখে। এতে শিক্ষাজীবন ও ক্যারিয়ার দুই দিকেই তৈরি হয়েছে মারাত্মক ঝুঁকি।
পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা গতকাল ক্লাসে ফিরলেও কোনো শিক্ষককে শ্রেণিকক্ষে দেখা যায়নি। আজও শিক্ষার্থীরা যথানিয়মে উপস্থিত থাকলেও দুপুর পর্যন্ত কোনো শিক্ষক ক্লাসে আসেননি।
এ পরিস্থিতিতে গতকাল অভিভাবকরাও সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে কুয়েট ক্যাম্পাসে মানববন্ধন করেন। তারা জানান, এত দীর্ঘ সময় শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে কুয়েটের ছাত্র কল্যাণ পরিচালক প্রফেসর ড. আব্দুল্লাহ ইলিয়াস গণমাধ্যমকে বলেন, “ভিসি পদটি শূন্য থাকায় আমরা কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারছি না। আমরা চাই, আগে উপাচার্য নিয়োগ হোক। তারপর ক্লাস শুরু করবো। কারণ শিক্ষার্থীদের কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে তার দায় কে নেবে?”
স্বদেশ প্রতিদিন/কেআইকে