
খাল ভরাট করে করাত কল ও পানের বাজার
বরিশালের উজিরপুরে সরকারি খাল ভরাট করে অবৈধভাবে করাত কল ও পানের বাজার পরিচালনা করছেন স্থানীয় প্রভাবশালী সৈয়দ শহিদুল হক, তার পুত্র সৈয়দ মামুন ও অন্যান্য ভাইয়েরা।
বরিশাল পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে খালের অবস্থান সম্পর্কে জানতে লিখিতভাবে অনুরোধ জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) সরেজমিন পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আলী সুজা ও পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক কামাল মেহেদী।
পরিদর্শনের সময় খালের উপর চারটি বাঁধ দিয়ে স্থাপিত করাত কল ও পানের আড়তের সত্যতা দেখা যায়, যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি বলে মন্তব্য করেন ইউএনও। মোঃ আলী সুজা জানান, এসময় দখলকারী সৈয়দ মামুন প্রশাসনের সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।
পরিবেশ আইন ২০১২-এর করাত কল বিধিমালার ৭(খ) ধারা অনুযায়ী, করাত কলটি সম্পূর্ণভাবে অবৈধ। ফলে পরিবেশ অধিদপ্তর এবং বনবিভাগ লাইসেন্স বাতিল করেছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, খাল দখলের পেছনে স্থানীয় ইউপি সদস্য হানিফ হাওলাদারের সহযোগিতা রয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যা নদীর শাখা খাল দখল করে এই করাত কল স্থাপন করা হয়েছে, যা কৃষিকাজে ব্যবহৃত পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করছে। ২০২৩ সালেও পরিবেশ অধিদপ্তর অবৈধ দখলের কারণে করাত কল বন্ধের নোটিশ দিয়েছিল, কিন্তু তা উপেক্ষা করেই ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, খালের পানি কৃষিকাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বাঁধ দেওয়ার ফলে খাল শুকিয়ে যাচ্ছে, আবার বৃষ্টির সময় জলাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে।
বাইতুন নূর জামে মসজিদের পাশের করাত কলের শব্দের কারণে ধর্মীয় পরিবেশও ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে মসজিদ কমিটি।
এ বিষয়ে করাত কলের মালিক সৈয়দ মামুন বলেন, “পরিবেশের ছাড়পত্র বাতিল করায় তিনি হাইকোর্টে মামলা করেছেন এবং সেখানে থেকে স্থগিত আদেশ পেয়েছেন। খাল ভরাট নয়, নিজের জমি ভরাট করে ব্যবসা করছেন।”
ইউএনওকে হুমকি ও ভিডিও প্রকাশের হুমকি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমার কাছে ভিডিও আছে, বেশি বাড়াবাড়ি করলে ছেড়ে দেব।”
এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আলী সুজা জানান, তিনি আগে জানতেন না যে এখানে সরকারি খালে দখল করে স্থাপনা গড়া হয়েছে। সরেজমিনে এসে বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন এবং মামুন তাকে হুমকি দিয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং অচিরেই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে।
বরিশাল পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক কাজী সাইফুদ্দিন বলেন, “সরকারি খাল দখল করে করাত কল স্থাপন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া পরিচালনার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”