
রাজধানী ঢাকার উপকন্ঠ রূপগঞ্জ উপজেলায় ব্যাপক উন্নয়ন হলেও অবহেলিত হয়ে আছে ভোলাব ইউনিয়ন। এই ইউনিয়নটিতে জনসংখ্যার পরিমান প্রায় ৬০ হাজার। জনসংখ্যার দিক দিয়ে এগিয়ে থাকলেও পিছিয়ে শিক্ষা ক্ষেত্রে।
এলাকার বেশীরভাগ মানুষ নিন্ম মধ্যবিত্ত আয়ের হওয়ায় আর্থিক অনটনের কারনে বেশীরভাগ ছেলে মেয়েরা মাধ্যমিকের পর ঝরে যায় ৷ যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে এ ইউনিয়নের ছেলে মেয়েরা সিংহভাগই মাধ্যমিকের গন্ডি পেরুতে পারে না। এসব বিষয় চিন্তা করে স্থাণীয় ইউপি চেয়ারম্যান স্থানীয়দের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহায়তায় উদ্যােগ নিয়োছে গনবাংলা উচ্চ বিদ্যালয়কে কলেজে উন্নতি করবেন। এতে অনেকটা খুশি স্থানীয় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা
এব্যাপারে সার্বিক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম।
জানা গেছে, রূপগঞ্জের একেবার সীমান্তবর্তী ইউনিয়ন ভোলাবো ইউনিয়ন। এখানকার লোকসংখ্যা প্রায় ৬০ হাজার। বেশীরভাগ লোক কৃষির উপর নির্ভরশীল ও নিন্ম আয়ের। এ ইউনিয়নের রয়েছে ৪ টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, রয়েছে বেশ কয়েকটি মাদ্রাসা। কিন্তু বিগত বছর গুলোতে এলাকার বেশীরভাগ ছেলে মেয়ে পারিবারিক আর্থিক অভাব অনটন ও এলাকা থেকে খানিকটা দূরে কলেজ থাকায় মাধ্যমিকের পর ঝড়ে পড়েছে।
এ ইউনিয়নে ৪ টি উচ্চ বিদ্যালয়, বেশ কয়েকটি মাদ্রাসা রয়েছে। কিন্তু কোন কলেজ এখানে নেই। এ নিয়ে ভোলাব ইউনিয়ন বাসীর আক্ষেপের শেষ ছিল না। অবশেষে সেই আক্ষেপের অবসান ঘটিয়ে এগিয়ে এসেছে ভোলাব ইউনিয়নের স্বর্ণপদক প্রাপ্ত চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন টিটু। আলমগীর হোসেন টিটু এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে গণ বাংলা উচ্চ বিদ্যালয়ে কলেজ চালু করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। যাতে করে শিক্ষার্থীদের মাধ্যমিকের পরে ঝরে পড়তে না হয়।
মঙ্গলবার দুপুরে ভোলাব ইউনিয়নের গণবাংলা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ৩৮ জন এসএসপি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধণার মধ্যে দিয়ে এ কলেজের উদ্বোধন করা হয়। এতে যেমন খুশি স্থানীয় শিক্ষার্থী, তেমনই খুশি অভিভাবক ও স্থানীয়রা।
গণবাংলা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভাপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জামান মিয়া বলেন, ভোলাব ইউনিয়ন বাসীর দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন ছিল গণবাংলা উচ্চ বিদ্যালয়ে একটি কলেজ হবে। অনেকে এটিকে কলেজ করার চেষ্টা করলেও সফল হয়নি। তবে আলমগীর হোসেন টিটুসহ যাদের উদ্যোগে কলেজটি চালু হচ্ছে তাদের কাছে ভোলাব ইউনিয়নবাসী কৃতজ্ঞ থাকবে। অর্থের অভাবে যারা শিক্ষা লাভ করতে পারে না তাদের জন্য কলেজটি আশির্বাদ স্বরূপ। তারা এখানে স্বল্প খরচে লেখপাড়া করতে পারবে।
এ ব্যাপারে ভোলাব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন টিটু বলেন, এখানে ৪ টি উচ্চ বিদ্যালয়সহ কয়েকটি মাদ্রাসা রয়েছে। কিন্তু এখানে কোন কলেজ নাই। কিভাবে এলাকার হত দরিদ্র, মেধাবী শিক্ষার্থীরা উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারে, সে দিক বিবেচনা করে গনবাংলা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাথে কলেজ শাখা সংযোগ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আশা রাখি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সার্বিক সহায়তায় আমাদের এ স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিবে। এইচএসসি শেষ করে ছেলে মেয়েরা দেশের ভাল বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে ভর্তি হয়ে ভোলাব ইউনিয়নের সুনাম করবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ভোলাবো ইউনিয়ন বাসী সহ ভোলাবো ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন টিটুর উদ্যোাগে আজকে একটি নতুন কলেজের উদ্ধোধন করা হয়েছে। এতে করে এলাকার ছেলে মেয়েদের শিক্ষাক্ষেত্রে অনেকটা সুগম হবে বলে আমি মনে করি। আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাদু বাদ জানায়। আমাদের পক্ষ থেকে যতটুকু সহায়তা প্রয়োজন সেটা করবো।
স্বদেশ প্রতিদিন/কেআইকে