
খুলনা পাইকগাছা, কয়রা সড়কে বেহাল দশার কারণে যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে শ্রমিকরা। পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই গাড়ি বন্ধের কারণে শত শত যাত্রী বাসস্ট্যান্ডে এসে বিপাকে পড়েছে। অনেকে মোটরসাইকেলে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে যাচ্ছে।
শনিবার গভীর রাতে কপিলমুনির ফকিরবাসা মোড় ও তালা থানার পাশে বেহাল রাস্তায় ট্রাক আটকে যায়। সে কারণে ভোর থেকে সকল ধরনের বাস-ট্রাক বন্ধ ঘোষণা করে বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক সমিতি।
খুলনা জেলা বাসও মিনিবাস মালিক সমিতি সূত্রে জানা গেছে, খুলনা-পাইকগাছা রুটে প্রতি ১২ মিনিট পর পর একটি গাড়ি ছেড়ে যায়। সে হিসেবে ১২০টি গাড়ি চলাচল করে এবং ৭০টি ঢাকার পরিবহন চলাচল করে এ সড়কে। সড়ক খারাপ হওয়ার কারণে নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে পৌছানো সম্ভব হচ্ছে না।
হাবিব নামে এক বাসযাত্রী জানান, ‘আমাকে খুলনা কোর্টে জরুরি কাজে যেতে হবে। বাস বন্ধের কারণে বিপাকে পড়েছি। পকেটে টাকা কম থাকায় বেশি ভাড়া দিয়ে মোটরসাইকেলে যেতে পারছি না।,
রহমত আলী নামে আরও এক যাত্রী বলেন, ‘আমার পিতা খুমেক হাসপাতালে ভর্তি। গাড়ি বন্ধের কারণে খুলনা যেতে পারছি না আবার থাকতেও পারছি না।’
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সামিয়া সুলতানা জানান, ‘জরুরি কাজের জন্য বাড়িতে এসেছিলাম। কিন্তু এখন যেতে পারছি না। আাবার ১শ’ টাকা খরচ করে বাড়ি ফিরে যেতে হবে।,
কয়রার সাংবাদিক হাবিব জানান, কপিলমুনির ফকিরবাসা মোড়, গোলাবাটী মোড়, মুচির পুকুর মোড়ের অবস্থা খুবি খারাপ। সকাল থেকে অনেক যাত্রী কাউন্টার থেকে ফিরে যেতে দেখেছি। এক কথায় যাত্রী ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
বাস ড্রাইভার আবু বক্কর জানান, ‘বেহাল সড়কের কারণে গাড়ি চালাতে খুব সমস্যা হচ্ছে। যাত্রীরা চরম ভোগান্তি পাচ্ছে।’
বাস মালিক সমিতির সহ-সভাপতি অমরেশ কুমার মন্ডল জানান, ‘আঠারো মাইল থেকে পাইকগাছা পর্যন্ত ৬ স্থানের রাস্তার খুব খারাপ অবস্থা। তালা থানা-ব্রিজ মোড়ের মধ্যবর্তী স্থান এবং কপিলমুনি ফকিরবাসা মোড়, গোলাবাটী মোড়, মুচির পুকুরের মোড়ের অবস্থা খুবই খারাপ। আমরা মালিক সমিতির পক্ষ থেকে ইট-বালু ফেলে মেরামতের চেষ্টা করছি।’
পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহেরা নাজনীন জানান, তালা থানার পাশে মাল বোঝায় ট্রাক রাস্তার মাঝে নষ্ট হয়েছে। সেজন্য গাড়ি চলাচল বন্ধ আছে।
খুলনা সওজ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ তানিমুল হক জানান, ভাঙ্গা সড়কে মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে। অচিরেই সড়ক চলাচল স্বাভাবিক হবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/কেআইকে