প্রকাশ: শনিবার, ১২ জুলাই, ২০২৫, ১:৩৮ পিএম

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (মাভাবিপ্রবি) ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ১১৩ কোটি ৭ লক্ষ টাকার রেকর্ড বাজেট ঘোষণা করেছে। গত বছরের তুলনায় বাজেট বেড়েছে ১০.৮৭ শতাংশ।
মোট বাজেটে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আয় ৬ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা এবং বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (বিইউজিসি) কর্তৃক বরাদ্দ ১০৬ কোটি ৭৭ লক্ষ টাকা।
বাজেটে বেতন-ভাতা, গবেষণা, যানবাহন এবং স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় বরাদ্দ বৃদ্ধি পেয়েছে। সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ বৃদ্ধি পেয়েছে প্রাথমিক যানবাহন খাতে। ৬৬.৬৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে বরাদ্দ দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ২২ লক্ষ টাকা। যেখানে গত অর্থবছরে এই খাতে বরাদ্দ ছিল ১ কোটি ৯৩ লক্ষ ২০ হাজার টাকা। গবেষণা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি পেয়েছে ১৪.৮৫ শতাংশ। গত বছর বরাদ্দ ছিল ২ কোটি ২৯ লক্ষ টাকা, যা নতুন অর্থবছরে বেড়ে হয়েছে ২ কোটি ৬৩ লক্ষ টাকা।
চলতি অর্থবছরে মোট বেতন সহায়তা খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৪১ কোটি ৯৬ লক্ষ টাকা, যা গতবারের তুলনায় ৭.৮৮ শতাংশ বেশি। ভাতা বাবদ বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২৯ কোটি ১৩ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা এবং পেনশন খাতে রাখা হয়েছে ১ কোটি ৪৬ লক্ষ টাকা।
পণ্য ও সেবা (সাধারণ ও মেরামত) খাতে বরাদ্দ ৬.২৩ শতাংশ বেঁড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫ কোটি ৮৪ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকায়। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সহায়তা খাতে বরাদ্দ বেড়ে হয়েছে ৪৭ লক্ষ টাকা। সকল খাতে বরাদ্দ বাড়লেও তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। আগের বছর এই খাতে বরাদ্দ ছিল ১ কোটি ৪৫ লক্ষ টাকা, যা এবারে কমে হয়েছে ১ কোটি ১৫ লক্ষ টাকা।
বাজেট বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো: আনোয়ারুল আজীম আখন্দ বলেন, "আমরা চলতি অর্থবছরে একটি উল্লেখযোগ্য বাজেট বরাদ্দ পেয়েছি। এর একটি বড় অংশ বেতন-ভাতাদির জন্য বরাদ্দ থাকবে। তবে অবশিষ্ট অংশটি যেন শিক্ষার্থীবান্ধব কার্যক্রমে যথাযথভাবে ব্যবহার করা হয়, সেদিকে আমরা অগ্রাধিকার দেব। আমরা চাই এই বাজেট থেকে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সবারই যেন সরাসরি উপকার হয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখে।"
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বিবেচনায় গবেষণায় বরাদ্দ যথেষ্ট কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, "আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি এবং গতবারের তুলনায় এবার কিছুটা বেশি বাজেট বরাদ্দ পেয়েছি। এই অর্থ যেন সঠিকভাবে ইউটিলাইজ হয়, তা নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করব। প্রকল্প প্রস্তাবনা যারা তৈরি করেন, তাদের কিছু সম্মানী দেওয়া হয়—তবে এ বরাদ্দ আরও বাড়ানো গেলে ভালো হতো। কারণ, পর্যাপ্ত উৎসাহ ও প্রণোদনা ছাড়া নতুন উদ্ভাবন সম্ভব নয়। যদি আমরা আগামী প্রজন্মকে বিজ্ঞাননির্ভর করে গড়ে তুলতে না পারি, তাহলে ভবিষ্যতে আমরা পিছিয়ে পড়ব। তাই গবেষণা ও উদ্ভাবনে বিনিয়োগ বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।"
স্বদেশ প্রতিদিন/ এমএএম