প্রকাশ: শুক্রবার, ১১ জুলাই, ২০২৫, ১:৫৯ পিএম

ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলের সদের তেইমান সামরিক ঘাঁটিতে এক ইসরাইলি সেনা আত্মহত্যা করেছেন। গাজা যুদ্ধ থেকে ফিরে আসার পর ওই সেনা নিজেকে গুলি করে আত্মহত্যা করেন।
বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) এ তথ্য জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো, যা এক প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছে বার্তাসংস্থা আনাদোলু।
ইসরাইলি দৈনিক হারেৎজ-এর বরাতে জানা গেছে, আত্মহত্যাকারী সেনা ছিলেন ইসরাইলি বাহিনীর গোলানি ব্রিগেডের সদস্য। গাজা থেকে ফিরে তিনি ঘাঁটিতে বিশ্রামে ছিলেন এবং সেই সময়ই সামরিক পুলিশের জেরার মুখোমুখি হন। মাসখানেক আগে তার বিরুদ্ধে একটি তদন্ত শুরু হয় এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা তার অস্ত্র জব্দের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
তবে হারেৎজ জানিয়েছে, ওই সেনা তার ঘুমন্ত বন্ধুর অস্ত্র ব্যবহার করে আত্মহত্যা করেন। যদিও তদন্তের বিষয়টি ‘ব্যক্তিগত আচরণের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়’ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তবে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করা হয়নি।
জানা গেছে, আত্মহত্যাকারী সেনার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু গত মাসে গাজায় এক বিস্ফোরণে নিহত হন, যা তার মানসিক অবস্থার ওপর প্রভাব ফেলেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইসরাইলি গণমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ইসরাইলি সেনাবাহিনীতে আত্মহত্যার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ইসরাইল হায়োম পত্রিকার তথ্য অনুসারে, শুধু ২০২৪ সালেই ২১ জন ইসরাইলি সেনা আত্মহত্যা করেছেন। হারেৎজ-এর মে মাসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, গাজা যুদ্ধ শুরুর পর আত্মহত্যাকারী সেনার সংখ্যা অন্তত ৪২।
অন্যদিকে, যুদ্ধ অব্যাহত রেখেছে ইসরাইল। আন্তর্জাতিক চাপ উপেক্ষা করে গাজায় ধ্বংসাত্মক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে দেশটি। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলমান এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫৭ হাজার ৭০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই নারী ও শিশু।
ইসরাইলের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ উঠেছে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গালান্তের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) ইসরাইলের বিরুদ্ধে গণহত্যার মামলাও চলমান।
সূত্র: আনাদোলু
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম